স্বাধীনতার মাসে চলে গেলেন ঝালকাঠির ভাষা সৈনিক লাইলী বেগম

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২০

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ঝালকাঠির ভাষা সৈনিক লাইলী বেগম (৮০)। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে তিনি ঢাকা সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই মঙ্গলবার রাত ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)।

তিনি ২ ছেলে ও ৮ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বুধবার সকালে তাঁর মরদেহ পূর্বচাঁদকাঠি বাসভবনে নিয়ে আসলে সেখানে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জোহরবাদ শহরের এবায়দুল্লাহ জামে মসজিদ চত্বরে জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কল্যাণকাঠি গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা বিােভ করেন। তখন পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন রফিক, শফিক, সালাম, বরকতসহ আরো অনেকে। সেই খবরটি ঝালকাঠিতে এসে পৌঁছালে ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে ঝালকাঠিতে বিভিন্ন স্কুলের শিার্থীরাও ভাষা আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। তাদের মধ্যে ওই সময়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী লাইলী বেগমের অগ্রণী ভূমিকা ছিলো। জীবদ্দশায় লাইলী বেগম বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, দেশও স্বাধীন হয়েছে।

কিন্তু ভাষা সৈনিকের কোন স্বীকৃতি মেলেনি তাঁর। তবে ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক তাকে ভাষা সৈনিক হিসেবে মর্যাদা দিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন।

লাইলী বেগমের ছেলে আল-আমিন উজ্জল বলেন, মৃত্যুর আগে আমার মা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে কথার বলার শেষ ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আশা আর পূরণ হয়নি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরে তিনি মারা যান। বাবার কবরের পাশেই কল্যাণকাঠি গ্রামে তাকে দাফন দেওয়া হবে।

Share Button