দৌলতখানে ৩২ জেলে আটক: ২৩ জনের জেল-জরিমানা

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

দৌলতখান প্রতিনিধি ॥ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার দৌলতখানের মেঘনায় মাছ শিকারের দায়ে ৩২ জেলেকে যৌথভাবে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ ও থানা পুলিশ। সোমবার রাতে পৃথক পৃথকভাবে মেঘনায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় ৭০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, মশারী জাল ও ৯ টি ট্রলার জব্দ করা হয়। পরে মেঘনার পাড়ে জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ট্রলারগুলো নিলামে দেওয়া হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জীতেন্দ্র কুমার নাথ আটককৃত ৩২ জেলের মধ্যে ৬ জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও ১৭ জেলেকে এক বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। বাকী ৯ জেলেকে কিশোর আইনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জরিমানাকৃতরা হলেন- বিল্লাল, ইউসুফ, নুরউদ্দিন, নুরনবী, জামাল, নুরে আলম। সাজা প্রাপ্তরা হলো, এরশাদ(৩৫), নিজাম(৪০), সালাউদ্দিন(৩৫), হেল্লাল(৩০), এমরান(২৫), নাছির(২৫), মনির(৩০), ইদ্দিস(২৫), ইসমাইল(৩০), সোহেল(৩০), রুবেল(২৫), মিলন, সুমন, রিপন, ফরিদ ও আনোয়ার। এঘটনায় ওইদিন দুপুরে জেলে পরিবারের লোকজন থানার গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসময় বিক্ষুব্ধ জেলে পরিবারের লোকজন বলেন, মেঘনায় মাছ শিকারের অপরাধে আমাদের পরিবারের লোকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা টাকার প্রভাব খাটিয়ে ১৫ জন জেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছে। আমরা গরীব টাকা দিতে পারিনি। এ জন্য আমাদের পরিবারের লোকজনকে জেল দিয়েছে। হাজীপুর চরের মৎস্য ব্যবসায়ী ইউপি সদস্য মিজান তার আড়তের ৬ জেলেকে অর্থের বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। এছাড়াও বাকী ৯ জেলে (কিশোরের) স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। দৌলতখান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে থেকে অভিযান চালিয়ে দৌলতখান মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে জাল, ট্রলার ও তাদের আটক করি। পরে  ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বজলার রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৭ জন জেলেকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী ১৫ জনের মধ্যে ৬ জনকে জরিমানা করে ও ৯ জনকে কিশোর আইনে  ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলেদের অভিযোগের ব্যাপারে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জীতেন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমার জানামতে এখানে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। কেউ যদি কাউকে কোন টাকা দিয়ে থাকে সেটা তাদের ব্যাপার।

Share Button