চীনের করোনাভাইরাসের প্রভাব বরিশালের ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেটে

প্রকাশিত: ৮:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

ফিরোজ গাজী ॥ বরিশালের ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেটে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সবধরনের ইলেকট্রিক পণ্যের দাম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে সকল ধরনের ইলেক্ট্রনিক পণ্য আমদানি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বরিশালের ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেটগুলোতে। বিশেষ করে কম্পিউটারের মাদার বোর্ড, র‌্যাম, প্রসেসর, স্যাটা হার্ডডিস্ক, এসএসডি হার্ডডিস্ক, পাওয়ার সাপ্লাই, কুলিং ফ্যান, স্ক্যানার, ডিভিডি রাইটার, কী-বোর্ড, মাউস, পেনড্রাইভ, ওয়াই-ফাই রাউটার, প্রিন্টার, টোনার, ডিএসএলআর ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা, ডিভিআর, এলসিডি-এলইডি মনিটর ও মোবাইল এক্সেসরিজসহ প্রায় সকল পণ্যের দাম ক্রমশই বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে পর্যাপ্ত প্রডাক্ট নেই কারও হাতেই। আর যেসব দোকানে পণ্য আছে তারাও এই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছেন তাদের মত করেই।

নগরীর ফজলুল হক এভিনিউর সিটি মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, জেনারেশন ভেদে মাদারবোর্ডের দাম রাখা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি। র‌্যামের দামও ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার বেশি। হার্ডডিস্কে বেড়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য সকল পণ্যই বিক্রি হচ্ছে নির্দিষ্ট দামের চেয়ে বেশি। এর বাইরেও ছোট-ছোট পণ্যেও এর প্রভাব রয়েছে। কী-বোর্ড, মাউস, ইউএসবি পেনড্রাইভ, ক্যাবলসহ অন্যান্য মালামালের দাম পূর্বের চেয়ে রাখা হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি। বেশ কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, প্রডাক্ট থাকলেও বিক্রি করতে চান না অনেক দোকানীই। বা করলেও নিচ্ছেন বাড়তি টাকা। খুচরা ব্যবসায়ী ও ডিলাররাও বর্তমান মার্কেটে পণ্য সংকটের কথা বুঝতে পেরে ভূমিকা নিচ্ছেন সংঘবদ্ধচক্রের।

আরও বেশ কয়েকজন মতামত প্রকাশ করে বলেন, যে ডিলার ও দোকানীদের কাছে আগে থেকেই এসকল ইলেক্ট্রনিক পণ্য পর্যাপ্ত রয়েছে তারা রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। কম্পিউটার এক্সেসরিজ কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, দোকানে কোন হার্ডওয়্যারের মালামালের দাম জিজ্ঞেস করলে তাৎক্ষণিক তা নেই বলে অন্যত্র যোগাযোগ করেন দোকানীরা। মালের সংকট বুঝে সে অনুযায়ী দাম হাঁকিয়ে বসেন ইচ্ছেমত। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে প্রশাসনের পর্যাপ্ত মনিটরিং নেই বলেই এধরনের ব্যবসায়ী চক্রগুলোর কাছে জিম্মি হয়ে থাকছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে ডিলার-ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে পাওয়া যায় ভিন্ন কথা। তারা জানান, আমাদেরও নির্দিষ্ট দামের চেয়ে খরচ বেশি হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে যতটা বেশি বলা হচ্ছে ততটা বেশি আমরা নিচ্ছি না। বেশি দামে ক্রয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারাও এক্ষেত্রে করোনাভাইরাসকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।

রায়ানস কম্পিউটার বরিশাল’র ইনচার্জ মিঠুন সাহা জানান, সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি বোর্ডে দাম বেড়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। তবে র‌্যাম মার্কেটে নেই বলেই জানান তিনি। পাশাপাশি প্রায় সব ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের মডেল ভেদেও বেড়েছে দাম।

আর্ক কম্পিউটার’র সেলস্ অ্যান্ড মার্কেটিং কর্মকর্তা আতিকুর রহমান আকরাম জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। তার মধ্যে রয়েছে মাদারবোর্ড, র‌্যাম, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা। ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, বেশি নেয়া হচ্ছে না।

বরিশাল কম্পিউটার’র সেলস্ অ্যান্ড মার্কেটিং কর্মকর্তারা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে চীনে ছুটি চলাকালীন পণ্য উদপাদন বন্ধ থাকে, পাশাপাশি করোনা ইস্যু- এদুটো মিলে বলা যায় ইলেক্ট্রনিক্স মার্কেটে একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এ কৃত্রিম সংকটে কিছুটা হলেও ল্যাপটপের দাম বেড়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান দৈনিক আজকের বার্তাকে জানান, এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত না। অভিযান চালাতে গিয়ে কোন ধরনের হয়রানি না করাই আমাদের লক্ষ। তবে এই মার্কেটগুলোতে আমাদের যথেষ্ট নজরদারি রয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Share Button