উইলিয়ামস-জারভিসদের ছাড়াই বাংলাদেশকে হারাতে চায় জিম্বাবুয়ে

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট নয়, ভক্ত ও সমর্থকরা বারবার হিসেব কষছেন। ব্যাটিং ও বোলিংয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি সাকিব আল হাসান নেই। তার অনুপস্থিতিতে বোলিং অনেকটাই কমজোরি হবে। ব্যাটিংয়ের একটি বড়সড় স্তম্ভও থাকবে না।

কিন্তু চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে মাঠে নামবে আরও দুর্ব-কমজোরি হয়ে। দলটির তিন তিনজন অন্যতম শীর্ষ তারকা ও অতি নির্ভরযোগ্য পারফরমার এবার নেই।

পেস বোলিংয়ের আশা ভরসা, সবচেয়ে দ্রুতগতির ও এক নম্বর স্ট্রাইক বোলার কাইল জারভিস নেই। সাথে নিয়মিত অধিনায়ক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার, দলের অধিনায়ক শন উইলিয়ামস এবং পেসার চাতারাও থাকছেন না একমাত্র টেস্টে।

এমন তিন তিনজন অপরিহার্য পারফরমারকে ছাড়া খেলতে হবে, সেটাও এমন এক দেশে এমন দলের বিপক্ষে; যে কন্ডিশনে ট্র্যাক রেকর্ড খুব খারাপ জিম্বাবুয়ের। হারের পাল্লা ভারি। ব্যর্থতাই সঙ্গী। তারপরও টাইগারদের সাথে টেস্টে মাঠে নামার আগে বুক কাঁপছে না জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের।

মাঠে ব্যাট ও বলের যুদ্ধে তার দল কতটা কি করতে পারবে? মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, তাইজুল ইসলাম, নাইম হাসান, আবু জায়েদ রাহিদের বিপক্ষে আদৌ কুলিয়ে উঠতে পারবে? তা নিয়ে জোর সংশয়-সন্দেহ থাকলেও জিম্বাবুয়ান অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী।

টেস্টের প্রায় সপ্তাহখানেক আগে রাজধানী ঢাকায় পা রেখেছে জিম্বাবয়ে। শনিবার পড়ন্ত বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পর আজ রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শেরে বাংলার একাডেমি মাঠে এক লম্বা ও নিবিড় প্র্যাকটিস সেশন কাটিয়েছে সফরকারিরা। অনুশীলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপে জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন অনেক কথার ভিড়ে কিছু তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেছেন।

একবার দু’বার নয়। গত ১০-১২ বছর কিংবা তারও বেশি সময় আগে থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আসা এবং বেশি খেলার অভিজ্ঞতা জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশের আবহাওয়া, স্লো লো, স্পিন সহায়ক উইকেট সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা জিম্বাবুয়ানদের। টাইগারদের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কেও তারা অনেক বেশি অবগত।

ZIM.jpg

তাই জিম্বাবুয়ান ক্যাপ্টেন কন্ডিশন নিয়ে চিন্তিত নন। আর বাংলাদেশের লাইনআপ দেখেও ভীত নন। বরং তার কথা শুনে মনে হলো, তার দল জিততে চায়। জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে এসেছেন তারা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশে আসার আগে নিজ মাটিতে শ্রীলঙ্কার সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের একটিতে হার মানলেও অন্যটিতে লড়াই-সংগ্রাম করে বীরোচিত এক ড্র করে জিম্বাবুয়ে। লঙ্কানদের বিপক্ষে সেই কৃতিত্বপূর্ণ ড্র করা ম্যাচটাকে অনুপ্রেরণা ধরেই বাংলাদেশের মাটিতে ভাল করতে চায় জিম্বাবুইয়ানরা।

ভাল মানে মুখে ভাল নয়। রীতিমত টাইগারদের হারিয়ে টেস্টও জিততে চায় আরভিনের দল। আজ জিম্বাবুইয়ান অধিনায়কের মুখে তাই সাহসী সংলাপ, ‘আমরা এখানে জিততে এসেছি। আসার আগে শ্রীলঙ্কার সাথে খুব ভাল একটা সিরিজ খেলে এসেছি। মাঝে বেশ কিছুদিনের বিরতি গেছে। তারপরও লঙ্কানদের সাথে ভাল খেলাটা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমরা হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছি।’

কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে তো আপনাদের সাফল্য অনেক কম। ব্যর্থতাই সঙ্গী। এ দেশের উইকেট, কন্ডিশন সম্পর্কে আপনাদের ধারণা কতটা? এমন প্রশ্নর জবাবে অনেক কথার ভিড়ে একটি বড় বার্তা দিয়ে ফেলেছেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক।

সেটা হলো, বাংলাদেশে তারা বহুবার খেলে গেছেন বলেই এ দেশের আবহাওয়া, উইকেট তথা কন্ডিশন সম্পর্কে তাদের ধারণা বেশ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। তাই সম্ভাব্য করণীয়ও জানা। এখন তারা সেই কাজগুলো জায়গামতো করে দেখাতে চান।

তাই জিম্বাবুইয়ান ক্যাপ্টেনের মুখে এমন কথা, ‘যেহেতু আমরা প্রায় নিয়মিতই খেলতে আসি, তাই বাংলাদেশের কন্ডিশনটা আমাদের চেনা, জানা। সখ্যও আছে বেশ। সে কারণেই আমরা সঠিক সময় জ্বলে উঠতে চাই। আমরা এখানে অতীতে কি করেছি, কেমন খেলেছি, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমাদের কাজগুলো ঠিকমত করতে চাই। আর তা করতে পারলে আর যাই হোক প্রথম দিন থেকেই ব্যাক ফুটে চলে যাব না।’

কাইল জারভিস, নিয়মিত অধিনায়ক শন উইলিয়ামস আর চাতারার মত তিন সিনিয়র এবং ফ্রন্টলাইন পারফরমার দলে নেই। এটা কতটা চিন্তার ? এমন প্রশ্নর জবাবে ততটা অস্বস্তি প্রকাশ করেননি আরভিন। বরং তার দলে থাকা দুই নবীন ক্রিকেটারকে নিয়ে আশাবাদী তিনি।

আরভিন বলেন, ‘আমাদের এবারের দলে কিছু নতুন মুখ আছে। তারা যাতে এই কন্ডিশনটায় স্বচ্ছন্দ্যবোধ করে, সে কাজটা করে দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই জয়। আমরা খুব বেশি টেস্ট খেলি না। সামনের দিনগুলোয়ও যে খুব বেশি খেলবো, এমন নয়। তাই সব টেস্ট ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শন উইলিয়ামস, কাইল জারভিস আর তেন্ডািই চাতারাকে খুব মিস করব, তারা আমাদের জন্য বড় খেলোয়াড়। তবে তাদের অনুপস্থিতি দলের তরুণদের জন্য একটা অন্যরকম দরজাও খুলে দিয়েছে। প্রিন্স মাসভারো আর কেভিন কাসুজা শ্রীলঙ্কার সাথে ইনিংসের সূচনা করেছে। আমরা তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষেও অমন শুরুর আশা করছি। তাদের জন্য সেটা হবে এক নতুন চ্যালেঞ্জ।’

বাংলাদেশ দলে সাকিব আল হাসান না থাকাটা তাদের জন্য অন্যরকম স্বস্তি হবে, স্বীকার করে আরভিন বলেন , ‘এটা একটা স্বস্তি যে সাকিব নেই। সে অবশ্যই বাংলাদেশ দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

Share Button