করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকায় ৫ জনকে আটক

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

করোনাভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে- এ ধরণের ভুয়া তথ্য প্রচারের জন্য পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। পুলিশ বলছে, ওই পাঁচজন নিজেদের ভুল স্বীকার করে সব ভুয়া খবর ইতিমধ্যে তুলে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরবর্তীতে আর কোন ভুয়া তথ্য ছড়াবে না বলেও লিখিতভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার আরামবাগ, মগবাজার ও রমনা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে রাতেই তাদেরকে ছেড়ে দেয় সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা।

সেখানকার অতিরিক্ত কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমাদের মনিটরিং টিম যখন দেখেছে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তখন আমরা কয়েকটির সোর্স বের করি। এরপর আমরা তাদেরকে ডেকে এনে বুঝিয়েছি কাউন্সেলিং করেছি, যে তাদের এ ধরণের আচরণে জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে, এর পরিণতি কতোটা খারাপ হতে পারে। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে বলেছে ওই পোস্টগুলো তারা তুলে নেবে এবং নিজেদের ভুল স্বীকার করে পোস্ট দেবে।”

বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, ফেসবুক গ্রুপ ও নিউজপোর্টালের মাধ্যমে এই গুজবগুলো ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান। কয়েকটি অনলাইনে এমনও বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে একই পরিবারের দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরে সাইবার ক্রাইম ইউনিট মুন্সিগঞ্জে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, এ ধরণের খবরের কোন ভিত্তিই নেই।

এ ধরণের ভুয়া খবর ছড়ানোর কারণ জানতে চাইলে আটক দুজন পুলিশকে যুক্তি দেখান যে, মানুষ ভয় পেয়ে আরও সচেতন হবে সে লক্ষ্যেই তারা এসব মনগড়া খবর প্রচার করেছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আসলে তাদের সাইবার ক্রাইম বা সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারের সঠিক জ্ঞান ছিল না। এজন্য আমরা তাদেরকে বুঝিয়েছি বা সফট পুশ করেছি। কিন্তু এরপরও যদি দেখি একই কাজ তারা করছেন তাহলে আমরা শক্ত অবস্থানে যাব। তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে।”

বাংলাদেশে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকেই সেই খবর জানানো হবে তাই তার আগে কোন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ‘সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হয়নি। আক্রান্ত হলে জানানো হবে। এটা লুকানোর কিছু নেই। কিন্তু মানুষ এই ভাইরাস নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। সেটাকে পুঁজি করে কেউ যাতে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে না পারে সেটা আমরা সার্বক্ষণিক মনিটর করছি’, বলেও তিনি জানান।

Share Button