‘করোনা ভাইরাস’ ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০

সমুদ্র পথে দেশের আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের সিংহভাগ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে এ বন্দরে। দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে চীন থেকে।

বন্দরের দেয়া তথ্যমতে, প্রতিমাসে চীন থেকে ১৪-১৫টি কনটেইনার জাহাজ এবং ৪ থেকে ৫টি জেনারেল কার্গো জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে। এ কারণে প্রতিদিন চীনের বিভিন্ন বন্দর থেকে দেশি-বিদেশি পণ্য বোঝাই জাহাজ নিয়ে নাবিকরা আসেন চট্টগ্রাম বন্দরে। ফলে ‘করোনা ভাইরাস’ ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে নানা ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এদিকে চীনের করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে চীনে চার শতাধিক লোকের মৃত্যুর কারণে এই আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। তাই সমুদ্রগামী জাহাজের মাধ্যমে মরণঘাতী এই ভাইরাস যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নাবিকের পরির্চযায় বন্দর মেডিকেল বিভাগের বিশেষ টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের উদ্যোগে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্য মৌলিক সুস্থতা অনুশীলনের নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বন্দরের হারবার ও মেরিন দফতরের এক জরুরি সভায় সমুদ্রপথে করোনা ভাইরাস প্রবেশ প্রতিরোধে জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং এজেন্টের মাধ্যমে কোনো জাহাজ বহির্নোঙরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ঘোষণা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বন্দরে আসা জাহাজের মাস্টারকে পোর্ট লিমিটে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা দিতে হবে যে, ওই জাহাজে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত নাবিক নেই বা আছে। এছাড়া পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা জাহাজগুলোতে শতভাগ নাবিকের পোর্ট হেলথ অফিসার স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ঘোষণা করলেই বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেয়া হবে।

করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নোংরা হাত দিয়ে নাক, কান ও মুখম-ল স্পর্শ না করা, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে সতর্কীকরণ প্রচারের জন্য নৌ, ট্রাফিক, নিরাপত্তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নিজ কক্ষে বা ঘরে অবস্থান, অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ পরিহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ মাস্ক ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জাহাজ থেকে হাসপাতালে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য বন্দরের এ্যাম্বুলেন্স শিপও প্রস্তত রাখা হয়েছে।

এদিকে বন্দর ইমিগ্রেশন ডেস্কে পোর্ট হেলথ অফিসারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। কোন নাবিক বাইরে যেতে চাইলে মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে সুস্থতা সাপেক্ষেই শুধু অনুমতি দেয়া হবে। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মাস্ক ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাইকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Share Button