আজকের বার্তা | logo

৮ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

অসময়ে বরিশালে প্রচুর ইলিশ

অসময়ে বরিশালে প্রচুর ইলিশ

অসময়ে বরিশালের নদ-নদীতে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। তাও আবার বড় বড় সাইজের। এতে খুশি ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই। তবে রপ্তানি বন্ধ থাকায় এবং সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় ইলিশ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আড়তদাররা। এদিকে সরবরাহ বেশি হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ পাঠাচ্ছেন বরিশালের বেপারিরা। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের দুটি মৌসুমের মধ্যে অতি আহরণের কারণে একটি মৌসুম হারিয়ে গিয়েছিলো। তবে সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় আবার ফিরে এসেছে হারানো মৌসুম। ফলে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। দামও কমেছে।
বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে অনেকটা ইলিশ শূন্য ছিলো বরিশালের পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম। স্থানীয় নদ-নদীর কিছু ইলিশ পাওয়া গেলেও দাম ছিলো আকাশচুম্বি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সেই পুরনো চিত্র পাল্টে গেছে। অসময়ে নদ-নদীতে ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ। সাইজেও বেশ বড়। এদিকে শীত মৌসুমে বাজারে দেশীয় প্রজাতীর বিভিন্ন মাছের আধিক্য থাকায় ইলিশের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এতে খুশি ক্রেতারা।

ইলিশ ব্যবসায়ী লালু সিকদার বলেন, শীত মৌসুমে ইলিশের তেমন চাহিদা থাকে না। এ কারণে ভরা মৌসুমের চেয়েও এখন ইলিশের দাম কম। তবে নদ-নদীতে এই সময়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা খুশি। হঠাৎ প্রচুর ইলিশের আমদানি হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্যাকেটজাত ইলিশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইলিশ ব্যবসায়ী মো. হারুন।
বরিশালের মোকামে গত বুধবার ১২শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯শ’ টাকা দরে, কেজি সাইজের প্রতি কেজি ৮শ’ টাকা, রপ্তানিযোগ্য প্রতি কেজি এলসি সাইজের ইলিশ ৬৫০ টাকা এবং ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ গ্রাম সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা কেজিতে। বৃহস্পতিবার সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা দরে দাম বেড়ে যায়।

বরিশালের ইলিশ আড়তদার জহির সিকদার বলেন, গত ২০ বছরেও শীত মৌসুমে এত ইলিশ ধরা পড়েনি বরিশালের নদ-নদীতে। অসময়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় রপ্তানি বন্ধ এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে পড়েছি। এখন ভরা মৌসুম অর্থাৎ বর্ষকালের চেয়েও ইলিশের দাম কম বলে জানান তিনি।

মৎস্য বিশেষজ্ঞ (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশের দুটি মৌসুম সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এবং জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারি। বিগত দিনগুলোতে অতি আহরণের কারণে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মৌসুমটি হারিয়ে গিয়েছিলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জাল বিরোধী সরকারি অভিযানের কারণে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ফিরে এসেছে ২০ বছর আগের মৌসুম। এই সময়ে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। এ কারণে দামও হাতের নাগালে।

আড়তদারদের ইলিশ সংরক্ষণের দাবীর বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বলেন, সম্প্রতি মৎস্য সচিব বরিশাল সফরে এসেছিলেন। তিনি স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বরিশালে একটি মৎস্য সংরক্ষণাগারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। এ বিষয়ে আগামীতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এদিকে বিপুল পরিমাণ ইলিশের মধ্যেই বাজারে বিক্রি হচ্ছে শিকার নিষিদ্ধ জাটকা। তবে এসব দেখছে না প্রশাসন। তবে দেখতে জাটকার মতো হলেও এগুলো জাটকা নয়, জাটকার  চেয়ে বড় বলে দাবি করেন জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস।

Share Button


দৈনিক আজকের বার্তা

প্রকাশক: মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক: কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল

যোগাযোগ

ঠিকানা: ৫২৫ ফজলুল হক এভিনিউ (কাকলীর মোড়), বরিশাল।
বাণিজ্যিক বিভাগ: 043163954
মোবাইল: 01916582339

Website Design & Developed By

আজকের বার্তার প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।