আজকের বার্তা | logo

২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং

বিশ্বকাপের সেরা একাদশে সাকিব ছাড়া আর কে?

বিশ্বকাপের সেরা একাদশে সাকিব ছাড়া আর কে?

ক্রিকেট বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই শেষ হয়েছে। আগামীকাল প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে নামবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ১১ তারিখে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। আরও ছয় দল সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে নেমেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হলেও সেসব দলের অনেকেই ক্রিকেটীয় নৈপুণ্যে মুগ্ধ করেছেন ক্রিকেট বিশ্বকে। দশ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোন ১১ জন সবচেয়ে বেশি ভালো খেলেছেন? বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশটা কেমন হতে পারে? আসুন দেখে নেওয়া যাক!

রোহিত শর্মা (ভারত, ৮ ম্যাচে ৬৪৭ রান)
এই বিশ্বকাপে এর মধ্যে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোটে পড়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় ওপেনিং সঙ্গী শিখর ধাওয়ানের। নতুন সঙ্গী লোকেশ রাহুলকে নিয়ে দুর্দান্ত খেলছেন রোহিত। আট ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি করেছেন এই তারকা! এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি ও বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন রোহিতের। ৮ ম্যাচে ৯২.৪২ গড়ে ৬৪৭ রান। ভাবা যায়!

ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া, ৯ ম্যাচে ৬৩৮ রান)
নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে আসা ওয়ার্নার এই বিশ্বকাপকে বেছে নিয়েছেন নিজেকে আরও একবার নায়ক হিসেবে তুলে ধরার মঞ্চ হিসেবে। ৯ ম্যাচে ৭৯.৭৫ গড়ে ৬৩৮ রান করে ফেলেছেন। এর আগে কোনো ওয়ানডে সিরিজে এত রান করেননি। এর মাঝে সেঞ্চুরি করেছেন তিনটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬৬ রানের ইনিংসটা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ওয়ার্নার এবার নিজেকে বদলে দীর্ঘ ইনিংস গড়ার পেছনে মনোযোগ দিচ্ছেন। আউট হওয়ার আগে ন্যূনতম ৮৯ বল খেলছেন এই বিশ্বকাপে।

জনি বেয়ারস্টো (ইংল্যান্ড, ৯ ম্যাচে ৪৬২ রান)
প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সূচনা করেছে রয়-বেয়ারস্টোর ওপেনিং জুটি। মাঝের দুটি ম্যাচে জেসন রয় না থাকলেও বেয়ারস্টোর ব্যাট হেসেছে নিয়মিতই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ডাক মেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা বেয়ারস্টো প্রতি ম্যাচে আস্তে আস্তে উন্নতি করেছেন। প্রথম রাউন্ডের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের সেমিতে ওঠা নিয়ে যে হালকা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা তুড়ি মেরে ইংল্যান্ড উড়িয়ে দিতে পেরেছে বেয়ারস্টোর ব্যাটে চড়েই। নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি করে দলকে নিয়ে গেছেন সেমিতে।

কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড, ৭ ইনিংসে ৪৮১ রান ও ২ উইকেট), অধিনায়ক
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে উইলিয়ামসন যেন আশার বাতিঘর। নিউজিল্যান্ডে যত রান করেছে, তার ৩০.২৩ শতাংশ উইলিয়ামসনই করেছেন। শেষ চার বছরে দশ রান করার আগে উইলিয়ামসন আউট হয়েছেন মাত্র দশবার। এই বিশ্বকাপেও উইলিয়ামসনের ব্যাটে চড়েই আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসন ন্যূনতম ৫০ রান করতে পারেননি এমন ম্যাচগুলোতে শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষেই জয় পেয়েছে তারা।

সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ, ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান ও ১১ উইকেট)
অবিস্মরণীয় এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। দুর্ভাগ্য, তাঁর অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পরেও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। একজন অলরাউন্ডারের কাছে স্বপ্নের বিশ্বকাপ বলতে যা বোঝায়, সাকিব ঠিক তেমন বিশ্বকাপই কাটিয়েছেন। টানা দুই সেঞ্চুরি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এর মধ্যে গেইল-রাসেলদের বিপক্ষে করা সেঞ্চুরিটা টুর্নামেন্টের চতুর্থ দ্রুততম। বল হাতে একই রকম কার্যকরী ছিলেন সাকিব। যখনই দরকার হয়েছে, দলকে ব্রেক-থ্রু এনে দিয়েছেন। ১১ উইকেট নিয়েছেন বল হাতে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপের ম্যাচে পাঁচ উইকেটও নিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ন্যূনতম ১০০০ রান ও ৩০ উইকেট নিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাকিব। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠলে হয়তো টুর্নামেন্ট সেরাও হয়ে যেতে পারতেন এই অলরাউন্ডার!

বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড, ৯ ম্যাচে ৩৮১ রান ও ৭ উইকেট)
তাঁকে কেন আদর্শ পেস বোলিং অলরাউন্ডার বলা হয়, এই বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বেন স্টোকস সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝিয়েছেন। এমনিতেই ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ লম্বা। কিন্তু যেদিন ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ব্যাটসম্যান তেমন কিছু না করে আউট হয়ে যান? হাল ধরেন স্টোকস। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিরুদ্ধে তাই ব্যাট হাতে উদ্দীপ্ত স্টোকসকে দেখেছে বিশ্ব। তা ছাড়া মাঝে মধ্যেই বল হাতে দলকে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে উইকেটে থিতু হওয়া সাকিব আর মোসাদ্দেকের উইকেট দুটি নিয়ে হিসেবে আবির্ভূত হন স্টোকস।

অ্যালেক্স ক্যারি (অস্ট্রেলিয়া, ৯ ম্যাচে ৩২৯ রান, ১৭ ক্যাচ, ২ স্ট্যাম্পিং)
অস্ট্রেলিয়ার সেমিতে ওঠার পেছনের নায়কদের কথা বলতে গেলে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির নাম বেশ পরেই আসবে। কিন্তু নিজের কাজটা করে চলেছেন নীরবে-নিভৃতে। এর মধ্যেই ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের শেষ দিকে তাঁর ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং না থাকলে হয়তো আজ সেমিতেই খেলা হতো না অস্ট্রেলিয়ার। ৫ উইকেটে ৭৯ রান দলের, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন অবস্থায় নেমেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ৯২ রানে ৫ উইকেট হারানো দলের ভার নিয়েছেন। উইকেটের পেছনেও দুর্দান্ত। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেরা দলের উইকেটরক্ষকও তাই ক্যারি।

মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান, ৯ ম্যাচে ১৭ উইকেট)
প্রাথমিক দলে মোহাম্মদ আমিরকে রাখাই হয়নি! বিশ্বকাপের আগে ১৪ ইনিংসে মাত্র ৫ উইকেট পেয়েছিলেন আমির। সেই আমিরই পাকিস্তানের সেরা বোলার! বাংলাদেশের বিপক্ষে শাহিন আফ্রিদি জ্বলে উঠেছিলেন, বাকি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ বলতে গেলে একাই সামলাচ্ছেন আমির। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটার আগে যেখানে বাকি পাকিস্তানি বোলাররা ৫২.৭ গড়ে ২১ উইকেট নিয়েছিলেন, সেখানে আমির একাই ১৪.৬ গড়ে তুলে নিয়েছিলেন ১৬ উইকেট! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০০ ছাড়ানো ইনিংসে ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন।

মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া, ৯ ম্যাচে ২৬ উইকেট)
এ বিশ্বকাপে মিচেল স্টার্কের বোলিং দেখলে চরম ক্রিকেট বিদ্বেষী মানুষটাও পেস বোলিংয়ের প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট (২৬) নেওয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রার রেকর্ডে এর মধ্যেই ভাগ বসিয়েছেন। হাতে যেহেতু অন্তত এক ম্যাচ আছে, রেকর্ডটা স্টার্কের হয়ে যাওয়ারই কথা। ইনিংসের যেকোনো সময়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান উইকেটে গেড়ে বসলেই অধিনায়ক ফিঞ্চ বল তুলে দিয়েছেন স্টার্কের হাতে। স্টার্কও উইকেট নিয়েছেন সমানে। স্টার্কের গতিঝড়ে উড়ে গিয়েছেন একের পর এক ব্যাটসম্যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে বলতে গেলে স্টার্ক একাই বোলিং দায়িত্ব সামলেছেন। আর স্টার্কের গতিতেই বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে রেখে দেওয়ার সাহস পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

ইমরান তাহির (দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯ ম্যাচে ৮ ইনিংসে ১১ উইকেট)
ইংলিশ কন্ডিশনে এখন পর্যন্ত পেস বোলারদের জয়জয়কার দেখেছে বিশ্বকাপ। পেস বোলারদের দৌরাত্ম্যে সাকিব ছাড়া শুধু আরেক স্পিনার নিজের কাজটুকু ঠিকঠাক করতে পেরেছেন, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির। ৮ ইনিংসে মাত্র ১১ উইকেট নিলেও, নজর কেড়েছে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তাহিরের উইকেট নিতে পারার ক্ষমতা। প্রায়ই অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসি তাঁকে দিয়ে বোলিংয়ের উদ্বোধন করাতেন। আর তাতে সফলও হয়েছেন তাহির। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রথম ওভারেই জনি বেয়ারস্টোর উইকেট নেওয়াটা তারই উদাহরণ। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সময়ে উইকেট এনে দিয়েছেন।

যশপ্রীত বুমরা (ভারত, ৯ ম্যাচে ১৭ উইকেট)
বিশ্বের এক নম্বর বোলার বুমরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, কেন সব বোলারদের ওপরে তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারগুলিতে বুমরার বলে রানই নিতে পারছেন না ব্যাটসম্যানরা! ইয়র্কারের যে কত রকম ধরন হতে পারে, বুমরা দেখিয়ে দিচ্ছেন এবার। উইকেটের দরকার হলেই, বা প্রতিপক্ষের রানে বাঁধ দেওয়ার দরকার হলেই ডাক পড়ছে বুমরার। বুমরার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং প্রশংসা কুড়িয়েছে ওয়াসিম আকরাম, ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তিদের। আট বছর পর ভারত বিশ্বকাপ জেতার যে আশা করছে, তার অনেক বড় কান্ডারি বুমরা।

স্ট্যান্ডবাই: অ্যারন ফিঞ্চ, বিরাট কোহলি, যুজবেন্দ্র চাহাল, লকি ফার্গুসন।

Share Button


দৈনিক আজকের বার্তা

প্রকাশক: মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক: কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল

যোগাযোগ

ঠিকানা: ৫২৫ ফজলুল হক এভিনিউ (কাকলীর মোড়), বরিশাল।
বাণিজ্যিক বিভাগ: 043163954
মোবাইল: 01916582339

Website Design & Developed By

আজকের বার্তার প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।