আজকের বার্তা | logo

৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

শুধু কাশ্মীরিদের নয়, বিপদ সবারই

শুধু কাশ্মীরিদের নয়, বিপদ সবারই

উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মোন্মাদনা, বিদেশভীতি, কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদী মনোভঙ্গি মিলেমিশে যখন একটি রাজনৈতিক আদর্শ তৈরি করে এবং সেই আদর্শের প্রচারকেরা যখন ক্ষমতায় আসীন হয়, তখন একটি দেশে কী পরিস্থিতির সূচনা হতে পারে, তার উদাহরণ হচ্ছে বিজেপি এবং তার নেতা নরেন্দ্র মোদির শাসিত ভারত। ‘ব্রুট মেজরিটি’ বা বর্বর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে এমন একটি সরকার কীভাবে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বদলে দিয়ে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করার দিকে এগোয়, সেই উদাহরণও মিলতে শুরু করেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাসংবলিত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ৩৫এ ধারা বাতিল, কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করা এবং কাশ্মীরের জনগণের ওপর কেন্দ্রীয় শাসনের নামে যে প্রত্যক্ষ দখলদারির শাসন চাপিয়ে দেওয়া হলো, তাকে বিবেচনা করতে হবে এই পটভূমিকায়।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাসংবলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারায় যে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে, তা কাশ্মীরের জনগণ অতীতে খুব বেশি ভোগ করেছে তা নয়, ১৯৫৭ সালের পর দফায় দফায় তাকে দুর্বল করা হয়েছে। ১৯৫৬ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ৪৭টি আদেশের মাধ্যমে তাকে এমন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে, যেখানে স্বায়ত্তশাসন কেবল প্রতীকী হয়ে উঠেছে। এর পরের কথা বাদই দিলাম। এখন সেই প্রতীকী স্বায়ত্তশাসনেরই কেবল অবসান ঘটল তা নয়, একই সঙ্গে এই ধারার কারণে ৩৫এ ধারার মাধ্যমে ভূমির ওপর, চাকরির ওপর তাদের যে অধিকার ছিল এবং স্থায়ী বাসিন্দা বলে কারা বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে রাজ্যের যে এখতিয়ার ছিল, তারও অবসান হওয়ার ব্যবস্থা হলো।

৩৭০ ধারা ছাড়া ৩৫এ ধারার কোনো বৈধতা থাকবে না, ইতিমধ্যেই সেই ধারাও বাতিল করার ব্যবস্থা হয়েছে। যাঁরা এই ৩৫এ ধারার ইতিহাস জানেন, তাঁরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন যে এর জন্মের উৎস ১৯২০ সালে কাশ্মীরের শেষ হিন্দুধর্মাবলম্বী মহারাজা হরি সিংয়ের আমলে। সেই সময়ে কাশ্মীরের ক্ষুদ্র হিন্দু জনগোষ্ঠীই দাবি করেছিল যে এমন ব্যবস্থা করা হোক, যাতে সমতলের হিন্দুরা এসে তাদের চাকরি নিতে না পারে। এখন এই ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে যা অর্জিত হবে, তার মডেল হচ্ছে, ইসরায়েল কর্তৃক অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপন; ওয়াশিংটন পোস্ট–এ প্রকাশিত এক লেখায় কাশ্মীরবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হাফসা কাঞ্জোয়াল একে বর্ণনা করেছেন ‘ভারতের সেটলার-কলোনিয়াল প্রজেক্ট’ বলে।

কাশ্মীর ইতিমধ্যেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সামরিক উপস্থিতির এলাকা বা মিলিটারাইজড জোন বলে পরিচিত; সেখানে ভারতীয় সৈন্যদের আচরণ দখলদার বাহিনীর মতোই। যে কারণে গত ৩০ বছরে কমপক্ষে ৩০ হাজার কাশ্মীরিকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা যে তার আসল অর্থ হারিয়ে ফেলেছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে কাশ্মীরের মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারেনি, তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। ভারতের সব কটি রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে যে আর কোনো রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এতবার হস্তক্ষেপ করেনি। সরকার বাতিল করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বহুবার, কেন্দ্রের ইচ্ছামাফিক। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রের শাসন কোথায় চলেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আর কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, ভারতের সেনাবাহিনীর সদস্যরা আর কোথাও এত দীর্ঘ সময় ধরে এত নগ্নভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি এবং তার জন্য দায়মুক্তি পায়নি।

Share Button


দৈনিক আজকের বার্তা

প্রকাশক: মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক: কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল

যোগাযোগ

ঠিকানা: ৫২৫ ফজলুল হক এভিনিউ (কাকলীর মোড়), বরিশাল।
বাণিজ্যিক বিভাগ: 043163954
মোবাইল: 01916582339

Website Design & Developed By

আজকের বার্তার প্রকাশিত-প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।