বরিশালে এইচএসসিতে ৬৮৯২০ পরীক্ষার্থীর অটোপ্রমোশন : জিপিএ-৫ বেড়েছে তিনগুণ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এবারের এইচএসসিতে অটোপাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষার্থী। শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন সাংবাদিকদের হাতে এইচএসসি’র অটোপাসের এ ফলাফলের শিট তুলে দেন। তবে পরীক্ষাবিহীন এ ফলাফলে খুব একটা খুশি নন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, প্রত্যাশা পূরণ না হলেও কারোনার কারণে সরকারের অটোপাসের এই ফলাফল মেনে নিতে হবে সবাইকে।

 

এদিকে, বরিশাল বোর্ড থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখাগেছে, ‘এবার এইচএসসিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন ৬৮ হাজার ৯২০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সবাই পাস করেছেন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৮ জন। সে হিসেবে জিপিএ-৫ উত্তীর্ণের হার ৮ দশমিক ০৮ ভাগ। যা গত বছরের তুলনায় শতকরা পাঁচ ভাগ বেশী। অপরদিকে, জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ২৭৪ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ২৯৪ জন। গত বছরে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থী। মোট ৬৮ হাজার ৯২০ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৭৩ জন ছাত্র এবং ৩৪ হাজার ৬৪৭ জন ছাত্রী। এছাড়া জিপিএ-৪-৫ গ্রেডে ২১ হাজার ৩৫৬ জন, পিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ গ্রেডে ১৭ হাজার ১৪১ জন, জিপিএ- ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ গ্রেডে ১৩ হাজার ৭২৬ জন, জিপিএ- ২ থেকে ৩ গ্রেডে ১০ হাজার ৭২১ জন এবং জিপিএ-১ থেকে ২ গ্রেডে পাস করেছেন ৪০৮ জন শিক্ষার্থী।

 

বিভাগভিত্তিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ হাজার ১৮৮ জন, মানবিক বিভাগে ৪০ হাজার ১২০ জন এবং ব্যবসায়ী শিক্ষা বিভাগ থেকে অটোপাস করেছেন ১৪ হাজার ৬১২ জন শিক্ষার্থী। এদিকে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তেমন উৎসহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মধ্যে। ইতিপূর্বে পরীক্ষার ফল জানতে কলেজ গুলোতে যেমন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভিড় দেখা যেত এবার করোনার কারণে সেই চিত্র ছিল পুরোটাই ভিন্ন।

 

হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মেলে নগরীর কলেজ গুলোতে। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায় নগরীর বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানগুলোতে। অবশ্য বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ফলাফল জেনেছেন মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং অনলাইনের মাধ্যমে। যে কারণে ফলাফল নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা দেয়নি।

 

আলাপকালে বিভিন্ন কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং শিক্ষার্থীরা বলেন, এই ফলাফলে তারা খুশি নন। পরীক্ষা দিয়ে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে ফলাফল পাওয়ার মজাই ভিন্ন। তার পরেও করোনার মধ্যে সরকার অটোপাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই মেনে নিতে হচ্ছে। আগামীতে করোনা পরিস্থিতি উন্নতির সাথে সাথে পূর্বের ন্যায় পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের আশা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।

 

শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান জানান, এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধা যাচাই করা সম্ভব। তাই পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১ এপ্রিল। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে গেল বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বন্ধ হয়ে যায় এইচএসসি পরীক্ষার কার্যক্রম। তিনি বলেন, অটোপাসের কারণে এবারের পরিস্থিতি পুরোটাই বদলে গেছে। যার বিরূপ প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন বলেন, ‘অটোপাসের ফলাফলের ব্যাপারে করো আপত্তি থাকলে রিভিউ করার সুযোগ আছে। যাদের আপত্তি আছে তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবে।