বরিশাল মুক্ত দিবসে উদ্বোধন হলো ৭১’র স্মৃতি বিজড়িত টর্চার সেল ও বাংকার


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৯:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০২০

খান রুবেল ::

বরিশালে উদ্বোধন করা হলো ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নীরব সাক্ষী ওয়াপদার টর্চার সেল। বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনিতে বাংকার ও টর্চার সেল সংস্কার এবং সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন।

বরিশাল সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মেয়র পতœী লিপি আবদুল্লাহ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান- বিপিএম বার, বরিশাল জেলার স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম- বিপিএম (বার), বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন আহমেদ।

এছাড়াও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট এ.কে.এম জাহাঙ্গীর, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, বাকেরগঞ্জ পৌর সভার মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, মুলাদী পৌর সভার মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী ঈমুল হোসেন লিটু, এ্যাভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, নারী প্যানেল মেয়র আয়েশা তৌহিদ লুনা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাট্যজন সৈয়দ দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফলোক উন্মোচন ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে ওয়াপদা কলোনির টর্চার সেল এবং বাঙ্কার সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

পরে ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে টর্চার সেলে ৭১ স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন, বিএমপি কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রসঙ্গত, ‘১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের নীরব সাক্ষী বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনির টর্চার সেল। যেখানে বাঙালী মা- বোনদের ধরে এনে ধর্ষণ-নির্যাতন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বাঙালীদের ব্রাস ফায়ার করে গণহত্যার পর লাশ ভাসিয়ে দেয়া হতো ওয়াপদা কলোনির পার্শ্ববর্তী খালে।

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদার বাহিনীর সেই টর্চার সেল স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ বছর পড়ে ছিল অরক্ষিত এবং অবহেলায়। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল এটি সংস্কার এবং সংরক্ষণের।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন বাংকার ও টর্চার সেল সংস্কার এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তবে তার মৃত্যুর পরে ওই উদ্যোগ মাঝ পথেই থেমে যায়। পরবর্তীতে বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল সমাজের দীর্ঘ আন্দোলনের পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান এর সহযোগিতায় সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে কোন প্ল্যান পরিকল্পনা ছাড়াই সংরক্ষণ কাজের নামে লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। তার পাশাপাশি বধ্যভূমি সংরক্ষণের নামে একটি মিনি পার্কের আদলে গড়ে তোলা হয় টর্চার সেলটি। যা মুক্তিযোদ্ধা ও সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

এ কারণে বর্তমান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের পরে প্রকল্পের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়া হয়। সেই সাথে বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের অবয়ব ফিরিয়ে দিতে গ্রহণ করা হয় ওয়াপদা’র বাংকার ও টর্চার সেল সংস্কার এবং সংরক্ষণ প্রকল্পের। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর ও মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর।

সরেজমিনে দেখাগেছে, ‘বধ্যভূমির টর্চার সেল সংস্কার করা হয়েছে। পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে গ্যালারী। সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমির বিভিন্ন নির্যাতনের দলিলপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইতিহাসের বর্ণনামূলক ১৫টি ফলক, দুটি বাংকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাগরদী খালের ওপর থাকা ব্রিজটিতে ‘৭১’ নামক একটি স্মৃতি ফলক নির্মাণ করা হয়েছে।