বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী : ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০২০

আককাস সিকদার, ঝালকাঠি প্রতিনিধি ::

বিদেশ পাঠানোর কথা বলে ১৬ জনের কাছ থেকে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ঝালকাঠির এক আদম ব্যবসায়ী গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন আদম ব্যবসায়ী জামাল মোল্লা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ মানিক। এ সময় আদম ব্যবসায়ীর প্রতারণার শিকার চাটখিলের ১৬ বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত অভিযোগে মানিক জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার হিমানন্দকাঠির মোতালেব মোল্লার ছেলে জামাল মোল্লা ঢাকার গুলশান এলাকার একজন আদম ব্যবসায়ী। গুলশানে জে এস ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি নেপালে শ্রমিক পাঠানোর কথা বলে গত বছর (২০১৯ সালে) বিভিন্ন সময় নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ১৬ জনের কাছ থেকে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন।

কিছুদিনের মধ্যেই তাদের বিদেশে পাঠানো হবে জানিয়ে ১৬ জনের কাছ থেকে পাসপোর্টও নেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও নেপাল পাঠাতে পারেননি তাদের। এক পর্যায়ে চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কথা বলে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন জামাল মোল্লা। মার্চ মাসের পরে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুটিয়ে গা ঢাকা দেন।

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জামালের মুঠোফোনে কল করলে, টাকা ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। টাকা চাইতে ঝালকাঠি আসলে তাদের মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন জামাল

। আদম ব্যবসায়ীর কাছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার লোকমান হোসেন দিয়েছেন চার লাখ ৫০ হাজার, আবদুস ছত্তার তিন লাখ, জাহাঙ্গীর আলম তিন লাখ, ইসমাইল হোসেন শান্ত চার লাখ ৫০ হাজার, ফয়েজ আহম্মেদ চার লাখ ৫০ হাজার, মো. আরমান তিন লাখ, মো. জুয়েল তিন লাখ, মোহাম্মদ আলী তিন লাখ, মো. নূর হোসেন তিন লাখ, মো. শাহা আলম তিন লাখ, মো. মহিনউদ্দিন তিন লাখ, নোমান হোসেন তিন লাখ, মো. জসিম উদ্দিন তিন লাখ, আবদুল আল মামুন তিন লাখ, ইয়াকুব হোসেন সুমন তিন লাখ ও মাহামুদুল হাসান তিন লাখ।

এ অবস্থায় টাকা ফেরত পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

এ বিষয়ে জানার জন্য জামাল মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Sharing is caring!