আজকের বার্তা | logo

১০ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২৪শে মার্চ, ২০১৯ ইং

পায়রা নদীতে ডুবোচর ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৪, ২০১৯, ০১:৪৮

পায়রা নদীতে ডুবোচর  ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

আমতলী প্রতিনিধি ॥ বুড়িশ্বর নদী বা পায়রা নদীটি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন এলাকায় প্রবাহমান পা-ব নদী হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। অতঃপর এই নদীর জলধারা আঙ্গারিয়া, লেবুখালী, পাঙ্গাশিয়া ইটবাড়িয়া ছোটবিঘাই, বড়বিঘাই, আয়লা পাটকাটা, গুলিশাখালী, আমতলী পৌরসভা, বুড়িরচর, আড়পাঙ্গাশিয়া এবং পচাকোড়ালিয়া, ছোটবগী ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরে নিপতিত হয়েছে। নদীতে সারাবছর পানিপ্রবাহ পরিদৃষ্ট হয় এবং ছোটবড় নৌযান চলাচল করে। তবে বর্ষাকালে নদীটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে পানির প্রবাহ অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ সময় নদীর তীরবর্তী অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। নদীটি  জোয়ার ভাটার প্রভাবে প্রভাবিত। এই নদী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপ দ্বিতীয় শ্রেণির নৌপথ হিসেবে স্বীকৃত। অপর দিকে বিষখালী ও বলেশ্বর নদী বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। ৩ নদীর মোহনাকে জেলেদের ভাষায় গাঙের আইল বলা হয়। বঙ্গোপসাগরে মিলিত হওয়া বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় লালদিয়া সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা-বিষখালীর মোহনায় পদ্মাবাবুগঞ্জচর। ৩ নদীর মোহনায় এ চর দুটি স্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে নদীর গভীরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পায়রা-বিষখালী নদীর মোহনায় রয়েছে বড়াইয়্যার ডুবোচর। ১৫-২০ কিমিজুড়ে এ চর ফকির হাট থেকে শুরু করে আশার চরে মিলিত হয়েছে। এ চরটি বঙ্গোপসাগর থেকে পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। আশার চরের শেষ সীমানা থেকে শুরু হয়েছে নলবুনিয়ার ডুবোচর। এ চরের বিস্তৃতি ৭-৮ কিমি। ডুবোচরটি পায়রা নদীর প্রবেশ দ্বারে অবস্থিত। পায়রার প্রবেশ মুখ অতিক্রম করে ৩-৪ কিমি পরে পরপর পদ্মা ও কুমিরমারা ডুবোচর। এ চরের বিস্তৃতি ৬-৭ কিমি। এ চরে পরন্ত ভাটায় লোকজন হাঁটাচলা করে। জোয়ারের সময় এ ডুবোচরে প্রচ- তুফান হয়। এ সময় ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে জোয়ারের পানির সাথে রূপালী ইলিশ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে অন্যান্য নদীর তুলনায় পায়রা নদীতে তুলনামূলক ভাবে ইলিশের সংখ্যা কম থাকে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানায় নদীর গতিপথ হারিয়ে যায় এবং ডুবোচরের সৃষ্টি হয়। ২০০৯ সালে আইলার পরে পায়রা নদীতে  দ্রুতগতিতে ডুবোচরের সৃষ্টি হয়। ওই সময় পর থেকে নদীর নাব্যতা হারাতে থাকে। বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বালুকণা ও পলি জমে নদীর গভীরতা কমে ২০ থেকে ২৫ ফুটে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের পানিতে আসা বালুকণা পায়রা নদীর তলদেশে জমা হয় কিন্তু ভাটার তীব্রতায় ওই পলি বঙ্গোপসাগরে যেতে পারে না। ফলে বালু কণা জমে সৃষ্টি হয় ডুবোচর। পায়রা নদীতে নাব্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদীতে  ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় লঞ্চ ও ফেরিসহ নৌযান চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। বরগুনা ও আমতলীর মাঝখান দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিমি প্রস্থ প্রবাহিত পায়রা নদী। আমতলী-পুরাকাটা পায়রা নদীর ফেরি চলাচলের জন্য গত বছর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ  চরের মধ্যখান দিয়ে চ্যানেল তৈরির জন্য ড্রেজিং করে। এক মাস যেতে না যেতেই ওই চ্যানেল ভরে যায়। এতে আবারও সমস্যায় পরে ফেরি ও খেয়া পারাপার। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, পায়রা নদীর চরপাড়ায় ১ কিমি, বুড়ির চর ৫ কিমি, লোচা থেকে শুরু করে ওয়াপদা স্লুইজগেট পর্যন্ত ২ কিমি, জাঙ্গালিয়া ২, ডালাচারা থেকে টিটিকাটা পর্যন্ত ৮ ও কাঁকচিরা থেকে মির্জাগঞ্জ পর্যন্ত ১০ কিমি এলাকাজুড়ে বিশাল ডুবোচরের কারণে নদীতে লঞ্চ, ফেরি ও ট্রলার চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। আমতলী-পুরাঘাট খেয়াঘাটের ইজারাদার মোঃ ইসহাক হাওলাদার বলেন, ‘‘অতিদ্রুত ডুবোচর ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা দূরীকরণ করে খেয়া পারাপারে সুবিধার দাবি জানাই।” বরগুনা বিআইডব্লিউটিএ’র পোর্ট অফিসার মোঃ মামুন অর-রশিদ বলেন, ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর স্বাভাবিক গতিপথ হ্রাস পেয়েছে। ড্রেজিং করে পায়রা নদীর নাব্যতা দূরীকরণে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।