আজকের বার্তা | logo

১১ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জুন, ২০১৯ ইং

নিওমোনিয়ার প্রকোপে শেবাচিমে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৩, ২০১৯, ০১:৩০

নিওমোনিয়ার প্রকোপে শেবাচিমে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

এম. বাপ্পি ॥ শীতের কারণে নগরীতে নিওমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৬ থেকে ১ বছর বয়সী শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়া ব্রংকাইটিস, শ^াসকষ্ট, ফুসফুসে প্রদাহ এবং ডায়রিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত কয়েকদিন যাবত প্রতিদিনই গড়ে অন্তত ২০ জন শিশু এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড স্বল্পতার কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নির্ধারিত বেড সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৩ গুণ রোগী ভর্তি আছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এ মাসে শীতের তীব্রতা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার শংকা করছেন সেবিকারা। এছাড়া হাসপাতালের বহি:বিভাগ এবং চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও ঠা-াজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গেল সপ্তাহে তারা বহি:বিভাগে অন্তত দেড় শতাধিক শিশু রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। প্রয়োজনানুসারে ভর্তিও করাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, শেবাচিম হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অন্তত শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে যাদের অধিকাংশই নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত। আক্রান্তদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহা বলেন, শীতের প্রভাবে শিশুদের মাঝে নিওমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এখানে শীতবাহিত রোগের কারণে যেসব শিশু ভর্তি আছে তাদের অধিকাংশই নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগে আক্রান্ত শিশুরা ঘন ঘন শ^াস নেয়। সাথে জ¦র এবং খাবারে অরুচি দেখা দেয়। তিনি বলেন, মূলত মা-বাবার অসচেতনতার কারণেই শিশুরা নিওমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হলে এনিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে আশ^স্ত করেছেন তিনি। শেবাচিম’র বহি:বিভাগের আবাসিক (শিশু) চিকিৎসক ডা. ফয়জুল হক জানান, শীতকালে সাধারণত শিশুরাই ঠা-াজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। গেল সপ্তাহে নিওমোনিয়া, ব্রংকাইটিস, শ^াসকষ্ট, ফুসফুসে প্রদাহ এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। এদের মধ্যে নিওমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। প্রয়োজনে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। যথা নিয়মে পথ্য গ্রহণের পাশাপাশি এরোগ থেকে পরিত্রাণে আক্রান্ত  শিশুদের পরিচ্ছন্ন রাখা, পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করানো এবং যথা সম্ভব উষ্ণ স্থানে রাখার পরামর্শ দেন তিনি অভিভাবকদের। এ বিষয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, নিওমোনিয়ায় শিশুদের আক্রান্তের ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই অনেকাংশে দায়ী। তাদের অসচেতনতায় শিশুদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এবং নিওমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। অধিক মাত্রায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অভিমত দিয়েছেন তিনি। বেড স্বল্পতার বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের কাজ শেষ হলে এ অবস্থা নিরসন অনেকটাই সহজ হবে। তবে এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে বেড সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৩ গুণ রোগী ভর্তি আছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টরা যথাসম্ভব সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রসংগত, শেবাচিম হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বর্তমান বেড সংখ্যা ৩৬। শুক্রবার পর্যন্ত ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত শিশু রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৫।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।