আজকের বার্তা | logo

৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং

ঈদকে সামনে রেখে বর্ণিল সাজে সেজেছে চরফ্যাশনের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

প্রকাশিত : জুন ১৪, ২০১৮, ১৫:১৬

ঈদকে সামনে রেখে বর্ণিল সাজে সেজেছে চরফ্যাশনের বিনোদন কেন্দ্রগুলো

অনলাইন সংরক্ষণ /// ঈদুল ফিতরকে সামনে বর্ণিল সাজে সেজেছে ভোলার স্বপ্নপূরী খ্যাত চরফ্যাশন। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে দৃষ্টিনন্দন সু-উচ্চ টাওয়ার, ডিজিটাল শেখ রাসেল শিশু পার্ক, কুকরীর সমুদ্র সৈকত, ঢালচরের তারুয়া বিচ ও বরিশালের একমাত্র বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল শহরের কোলাহল থেকে দূরে চর কুকরী-মুকরী লোকালয়ে নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণির অবাধ বিচরণের মাঝে প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য পেতে ভোলার চরফ্যাশন পর্যটকদের ভ্রমণে নতুন দিগন্তে অপার সম্ভাবনায় হাতছানি দিচ্ছে। শেষ মুহুর্তে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বর্ণিল আলোক সজ্জায় সজ্জিত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভোলার কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ খ্যাত স্বপ্নপূরী চরফ্যাশন এলাকায় তাই ঈদের ছুটিতে স্ব-পরিবারে ঘুরে যেতে পারেন যে কেউ।

দৃষ্টিনন্দন জ্যাকব টাওয়ার
বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারের আদলে ভোলার চরফ্যাশনে ১৮তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন জ্যাকব টাওয়ার। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ “জ্যাকব টাওয়ারের” আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে পর্যটকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জ্যাকব টাওয়ারের সু-উচ্চ চূড়ায় দাঁড়ালেই পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীর শান্ত জলধারা, পুর্বে মেঘনা নদীর ঢেউ, দক্ষিণে চরকুকরি মুকরিসহ বঙ্গোপসাগরের ঘেঁষে অবস্থিত পর্যটন দ্বীপ কুকরী-মুকরী, উত্তরে জেলা ভোলার বিরাট অংশ দেখা যাবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ এই টাওয়ারটি ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০টি পাথর ঢালাই পাইলিং ফাউন্ডেশনের উপর নির্মিত ২৩০ ফুট উচ্চতায় সু-উচ্চ সম্পূর্ণ স্টিলের স্ট্যাকচারে তৈরি এই টাওয়ার। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় এ টাওয়ারের চূড়ায় উঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি ১৬ জন ধারণ ক্ষমতার রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। ১০০০ বর্গফুটের ১৭তম তলায় রাখা হয়েছে পর্যটকদের বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। একসঙ্গে ৫শ’ পর্যটক সমবেত হতে পারবে। পর্যটকরা বাইনোকুলার বাইসকোপের মাধ্যমে আশপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দূরের দৃশ্যাবলী দেখতে পাবে।

বর্ণিল আলোর ফ্যাশন স্কয়ার
শহরের ফ্যাশন স্কয়ার ইতোমধ্যেই সকলের কাছে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। বৃহস্পতিবার ফ্যাসন স্কয়ারে নান্দনিক এই পানির ফোয়ারা উপমন্ত্রী জ্যাকব আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় বর্ণিল আলোর জমকালো ফোয়ারা। টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই পানির ফোয়ারায় মিউজিকের তালে পানির নৃত্য দেখে বিমোহিত হবে পর্যটকরা।

শেখ রাসেল শিশু পার্ক
স্বপ্নপূরী চরফ্যাশন পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র ফ্যাসন স্কয়ারের পাশে ২ একর জমিতে নির্মিত হয়েছে শেখ রাসেল শিশু ও বিনোদন পার্ক। আগামী শনিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব নতুন এই ডিজিটাল শেখ রাসেল শিশু বিনোদন পার্কের শুভ উদ্বোধন করবেন। বরিশাল বিভাগের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ৩০ রাইড নিয়ে এই শিশু পার্কটি শুভ সূচনা আরো ৬ মাস আগে, যা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। এই শিশু পার্কে রয়েছে প্রাটোফার, শাটল ট্রেন, হানিসুইং, মেরিগ্রাউন্ড, ওয়ান্টার হুইল, বড় পর্দায় ৯ ডি গেইমস ও হাতি, জিরাফ, ঘোড়া, বানর, ডায়নোসর, জিরাপসহ অশংখ্য প্রাণির আর্টিফিশিয়াল শিল্পকলা।

নয়নাভিরাম কুকরী-মুকরী 
শহর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকণ্ঠে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে উঠা চর কুকরি-মুকরিতেই রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য। চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বৃক্ষরাজি আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল নিয়ে স্বপ্নের দ্বীপ কুকরী-মুকরীর সাজ এক মনোমুগ্ধকর সমারোহে। বিশাল বনে চিত্রা হরিণ, বানর, উদবিড়াল, শিয়াল, বন্য মহিষ-গরু, বন বিড়ালের সঙ্গে পাখি ও সরীসৃপ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির বক, বন মোরগ, শঙ্খচিল, মথুরা, কাঠময়ুর , কোয়েল, গুইসাপ, বেজি, কচ্ছপ ইত্যাদি প্রাণি চর কুকরী-মুকরীর বনে দেখা যায়। কুকরী-মুকরীর প্রধান আকর্ষণ সাগর পাড়, এখানে উত্তাল ঢেউয়ের আছড়ে পড়া দেখলেই মনে পড়ে যাবে কক্সবাজার কিংবা সমুদ্র সৈকতের কথা, এই দ্বীপে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে সূর্য উদয় ও সূর্য ডোবার দৃশ্য। যা ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করবে।

লাল কাকড়ার দ্বীপ তারুয়া

কুকরীর পার্শ্ববর্তী দ্বীপের নাম ঢালচর। দেশের বৃহত্তম দুটি সমুদ্র সৈকতের পরে ঢালচর দ্বীপের তারুয়া এলাকাটি তৃতীয় সমুদ্র সৈকত। এই সৈকত জুড়েই রয়েছে লাল কাকড়ার বিচরণ। বিচে ছোট ছোট গর্তের মধ্যে লাল কাকড়া বাস করছে। অনেকের মতে তারুয়া লাল কাকড়ার বাড়ি হিসেবে পরিচিত। লক্ষ লক্ষ লাল কাকড়া জনমানবহীন তারুয়ায় কোথা থেকে কিভাবে এসেছে তা কেউ বলতে পারে না। যে প্রান্তেই চোখ যায় সেদিকেই যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। স্বপ্নপূরী চরফ্যাশনের প্রকৃতিক সৌন্দের্যের লীলাভূমি স্ব-চক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না।

যেভাবে যাবেন 
ঢাকার সদরঘাট থেকে রাতে এম ভি কর্ণফুলী-৪, এম ভি প্রিন্স অফ রাসেল-৪, এম ভি নিউ সাব্বির ২ ও ৩ লঞ্চে ভোলার ঘোষের হাট নামবেন। সেখান থেকে লেগুনা করে চলে যাবেন চরফ্যাশন শহরে। এছাড়াও সদরঘাট থেকে এম ভি ফারহান, এম ভি কর্নফূলী, এম ভি তাসরিফ লঞ্চে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট নামবেন। সেখান থেকে মাইক্রো, অটো, লেগুনা ও মোটরসাইকেলযোগে চরফ্যাশন শহরে পৌঁছবেন। বিত্তবানরা আকাশ পথে সরাসরি চরফ্যাশন ও কুকরী হেলিপ্যাডে ৪৫ মিনিটে আসতে পারেন।

আবাসন ব্যবস্থা
চরফ্যাশনে থাকার জন্য উন্নতমানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল মোটেল রয়েছে। এছাড়াও পর্যটন দ্বীপ কুকরী-মুকরীতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটকদের জন্য অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ‘থ্রি স্টার’ মানের তিনতলা বিশিষ্ট রেস্ট হাউজ রয়েছে। যেখানে পর্যটকদের স-পরিবারে থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত
বিনোদন প্রেমী মানুষের জন্য ফ্যাশন স্কয়ার, জ্যাকব টাওয়ার, শিশু বিনোদন পার্ক শেষ মুহুর্তে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এ ব্যপারে পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, উৎসবের এই আমেজে পর্যটকরা যাতে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য বর্ণিল আলোয় সজ্জিত করা হয়েছে শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।