আজকের বার্তা | logo

৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১৪ই আগস্ট, ২০১৮ ইং

বরিশাল বিভাগের দুই মাস জেলেরা কী খাবে?

প্রকাশিত : মার্চ ০৩, ২০১৮, ১২:৩০

বরিশাল বিভাগের দুই মাস জেলেরা কী খাবে?

বার্তা ডেক্সঃ বরিশাল বিভাগের ভোলা ও পটুয়াখালী সহ দেশের লক্ষীপুর, চাঁদপুর, শরীয়তপুর জেলার চারটি অভয়াশ্রমে পহেলা মার্চ থেকে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গেল পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮ মাস নদ-নদীতে জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ রয়েছে। তবে অভয়াশ্রমগুলোতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলেদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বরিশাল মৎস বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৫ জেলার ৪টি অভয়াশ্রমে মোট নদীর পরিধি ৩১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে চর ভেদুরিয়া থেকে চর মনতাজ ৯০ কিলোমিটার, ইলিশা থেকে চর কিয়াল ১০০ কিলোমিটার, চাঁদপুর ষাটনল থেকে লক্ষীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ খেকে শরীয়তপুরের মতলব পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এসব অভায়শ্রমে ইলিশ সহ সব ধরনের মাছের প্রজনন কেন্দ্র আর এই অভয়াশ্রমগুলোতে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১ এপ্রিল থেকে দুই মাস সব ধরনের মাছের পোনা বড় হওয়ার জন্য জেলেদের জাল ফেলা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অন্যদিকে গেল ১ নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস সব নদ-নদীতে জাটকা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে।

এদিকে গেল ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর থেকে প্রধান ইলিশের প্রজনকালীন ২২ দিনের ইলিশ ধরা বন্ধে সরকার কার্ডধারী জেলেদের জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল দিয়েছিলো আর জাটকা ধরা বন্ধে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চার মাস কার্ডধারী জেলে প্রতি ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তবে মোট জেলে সংখ্যার মধ্যে মাত্র ৪০ ভাগ জেলেকে এই চাল দিতে পারছে সরকার। তবে এসব জেলে পরিবারে চাল ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় আরো অনেক সামগ্রীর প্রয়োজন হয় বলে- জেলে পরিবারগুলোর কিছুতেই অভাব মিটছে না।

অপরদিকে বর্তমানে চলমান দুই মাস অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞায় সরকারের আলাদা কোন প্রণোদনা নেই। যার কারণে যারা পেশায় সারা বছর মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, ওইসব জেলেদের পরিবারগুলো অভাব-অনটনের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে। তারা চায়; সব ধরণের নিষেধাজ্ঞায় সরকারি এমন কোন প্রণোদনা, যাতে করে প্রতিটি জেলে পরিবারে অভাব না থাকে।

ভোলা জেলার ইলিশা নদীতে মৎস শিকারী তোফায়েল মাঝি জানান, নদী ভাঙনে তার সব ফসলি জমি হারিয়েছেন। এখন পরিবারে একমাত্র উপার্জন মেঘনা নদীর ইলিশা অভয়াশ্রমে মাছ শিকার করা। এখন নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ শিকার করতে না পারায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন দুঃসহ হয়ে উঠেছে।

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের জেলে মো. হারুন পলবান আজকের বার্তা’কে বলেন, সরকারের দেওয়া চাল দিয়ে শুধু ভাতের অভাব মিটে। তবে অন্যান্য সব কিছুই আমাদের কিনতে হয়। তাই চাল দেওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকাও দিতে হবে।

জেলে মো. মালেক বলেন, আমি সারা বছর মাছ ধরে সংসার চালাই। অথচ আমাকে জেলে কার্ড দেয়নি আর এখন পর্যন্ত কোন চাউলও পাইনি।

মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন তালুকদার আজকের বার্তা’কে জানান, সরকারের দেওয়া চাল মাত্র ৪০ ভাগ জেলেদের দিতে পারছি। এখানে জেলে পরিবারের অভাব মেটানোর জন্য আরো চালের পাশাপাশি নগদ টাকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বরিশাল মৎস বিভাগের কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস আজকের বার্তা’কে জানান, চলমান ৮ মাসের জাটকা শিকার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশের ৪ টি মৎস অভয়াশ্রমে দুই মাসের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এরফলে অভয়াশ্রমে পোনা সাইজের সব ধরনের মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাবে আর এই নিষেধাজ্ঞায় জেলেরাই সুফল পাবেন। ফল স্বরূপ গেল বছরের চেয়ে এবছর প্রচুর পোমা মাছ সহ বিভিন্ন জাতের বড় সাইজেন মাছ জেলেরা আহরণ করতে পেরেছে।

ঝালকাঠিতে আগুনে ৯ বসতঘর পুড়ে ছাই, আহত ৭

তিনি আজকের বার্তা’কে আরো জানান, অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সরকারিভাবে জেলেদের প্রতি কোন প্রনোদনা নেই। তবে জেলেদের জাটকা ধরা বন্ধে ফেব্রুয়ারি থেকে চার মাসের জন্য কার্ডধারী জেলে প্রতি ৪০ কেজি করে প্রতি মাসে চাল দেওয়া হচ্ছে। যে সব জেলে এখনো জেলেকার্ড পায়নি তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে জেলেকার্ড দেওয়া হবে।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।