আজকের বার্তা | logo

৫ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ২০শে আগস্ট, ২০১৮ ইং

আসছে দুর্যোগের মৌসুম শঙ্কা বাড়ছে উপকূলের

প্রকাশিত : মার্চ ০১, ২০১৮, ১৯:০১

আসছে দুর্যোগের মৌসুম শঙ্কা বাড়ছে উপকূলের

মার্চে সাধারণ ঝড়, বিশেষ করে কালবৈশাখী হলেও এপিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের সময়। এ হিসাব ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির’ (সিসিপি)। সে হিসাবে কয়েকদিন পরেই আসছে দুর্যোগ মৌসুম, এ মৌসুমে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অতি জোয়ার ও নদীভাঙনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। কিন্তু কারও জানা নেই এ সময়ে ভোলার উপকূলের মানুষ কতটা নিরাপদ এবং কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

অভিযোগ রয়েছে, উপকূলে প্রচার-প্রচারণার অভাব, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকা, রেডিও, টিভি ও মোবাইল ফোন প্রযুক্তি দুর্বল নেটওয়ার্কিংয়ের কারণে এখনো দুর্যোগ বিষয়ে সতর্ক হতে পারছে না ভোলার উপকূলের মানুষ। তাদের কাছে পৌঁছায় না দুর্যোগকালীন সতর্কবার্তা।

উপকূলের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছরে সিডর, আইলা, রেশমি, রোয়ানু ও মহাসেনসহ বিভিন্ন ঝড় বয়ে গেছে। ওই সব ঝড়ে জানমালের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আজও উপকূলবাসী অরক্ষিত। দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ফের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তার মধ্যে আবার দুর্যোগ এলেও সতর্কবার্তা পৌঁছায় না তাদের কাছে।

বাঁধের ধারের বাসিন্দা রিজিয়া, আ. খালেক, মতিউর জানান, ঝড় হবে তা মেঘ দেখলেই বুঝতে পারি। কিন্তু সতর্কবার্তা আমরা পাই না। তবে, বুঝতে পেরেছি বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ আসবে। তাই কিছুটা হলেও সতর্ক থাকার চেষ্টা। সংকেত ও ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে কিছুই জানা থাকে না বিবি রহিমা, লাইজু ও রেহানাসহ অনেক জেলে বধূদের। তারা জানালেন, নির্বাচন এলে মেম্বার-চেয়ারম্যান ভোট চাইতে আসে, কিন্তু দুর্যোগের সময় আমাদের কোনো খোঁজখবর নেয় না। দুর্যোগের পরেও সাহায্যের হাত বাড়াতে আসে না। লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বলেন, পুরো এলাকার মানুষ অনিরাপদ। কারণ এখনো তাদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি। তাই মানুষ ঝুঁকির মধ্যে আছেন।

সূত্র জানায়, জেলার মোট বাসিন্দা প্রায় ১৮ লাখ। সে হিসাবে জেলায় সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে ৫৭৯টি। এর মধ্যে চরফ্যাশন উপজেলায় ১৫০, বোরহানউদ্দিন ১০২, ভোলা সদরে ৭৫, দৌলদখানে ৪৯, মনপুরা ৬৩, লালমোহনে ৮৭, তজুমদ্দিনে ৫৩। এসব সাইক্লোন শেল্টার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া জেলার সাত উপজেলায় মোট ৫১টি মাটির কিল্লা রয়েছে। তবে এসব কিল্লার মধ্যে অধিকাংশ ব্যবহার অনুপযোগী তাই এসবের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান আদিল হোসেন তপু বলেন, দুর্যোগের আগে সতর্কবার্তা এবং পরে উদ্ধার কাজে আমাদের রেড ক্রিসেন্ট কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন। বিগত সময়ের মতো এ বছরও আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলায় ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন তারা দুর্যোগের আগে ও পরে কাজ করেন।

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিসিপি) উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন জানান, মার্চে সাধারণ ঝড় হয়ে থাকে। তবে এপ্রিল- মে, অক্টোবর-নভেম্বর ঘূর্ণি বা কালবৈশাখীর সময়। আমরা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছি। আমাদের ১০ হাজার ২০০ সিসিপি কর্মী প্রস্তুত আছে, তারা এলাকা ঘুরে যথাসময়ে সতর্কাবার্তা পৌঁছে দেন। তবে আমাদের আরও কিছু আধুনিকায়ন দরকার।

Share Button


আজকের বার্তা

আগরপুর রোড, বরিশাল সদর-৮২০০

বার্তা বিভাগ : ০৪৩১-৬৩৯৫৪(১০৫)
ফোনঃ ০১৯১৬৫৮২৩৩৯ , ০১৬১১৫৩২৩৮১
ই-মেলঃ ajkerbarta@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Site Map
Show site map

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রকাশকঃ কাজী মেহেরুন্নেসা বেগম
সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতাঃ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল
Website Design and Developed by
logo

আজকের বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।