৮ দফা দাবিতে বাসদের সড়ক অবরোধ আজ

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার প্রতিবাদে এবং জনজীবন রক্ষার ৮ দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত নগরীর সদর রোডে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখা।

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় নগরীর ফকিরবাড়ি রোডস্থ বাসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় অরাজক পরিস্থিতি তুলে ধরে এই সড়ক অবরোধের কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। বাসদ’র আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাসদের জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের শহীদুল ইসলাম, মিজান হাওলাদার, ফরহাদ, মেজবাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সুজন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ইমরান হাবিব রুমন বলেন, দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে করোনা চিকিৎসার দিক থেকে বরিশাল বিভাগের অবস্থান সর্বনিম্নে। করোনা পরীক্ষার পিসি আর ল্যাব ঢাকায় ৩৮টি, চট্টগ্রামে ৯টি। সদ্যোজাত বিভাগ রংপুর -ময়মনসিংহেও এই ল্যাব ২টি। কিন্তু বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার জন্য পিসিআর ল্যাব মাত্র ১টি। সেই একটি মাত্র ল্যাবে দক্ষ টেকনোলজিস্ট না থাকায় পরীক্ষা করাতে গিয়ে রোগীরা হচ্ছেন চরম হেনস্থার শিকার।

এছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যার দিক থেকেও বরিশাল সর্বনিম্নে। আইসিইউ বেড ১৮টি হলেও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ মাত্র ১ জন। বরিশালবাসী এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান। ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী ৮ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, একদিকে স্বাস্থ্যখাতে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসাক্ষেত্রে অপ্রতুলতা, আরেকদিকে প্রশাসন-সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে আছে নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতা। এখন পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে বয়স্ক, অসুস্থ রোগীদের জন্য করোনা পরীার নমুনা সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই।

বরিশালে স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিটি কর্পোরেশন কেউই এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের জন্য কোন বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করতে পারেনি। বরিশালের ২৭টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও সেটি নিয়ে ন্যূনতম সচেতনতামূলক উদ্যোগও সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিতে দেখা যায়নি বরং ২টি ওয়ার্ডে নামেমাত্র লকডাউন করা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতা ও নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতা উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একদিকে করোনা মহামারির চিকিৎসায় এই বিশৃঙ্খল অবস্থা, আরেকদিকে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনে হাজির হচ্ছে একের পর এক সংকট।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এনজিও তাদের কিস্তি আদায়ের জন্য হানা দিচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের দ্বারে দ্বারে। একদিকে বেসরকারি এনজিওদের উৎপাত, আরেকদিকে সরকারি বিদ্যুৎ অফিস থেকে মিটার রিডিং এর দ্বিগুণ তিনগুণ ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল পৌঁছে যাচ্ছে বাসায় বাসায়। সরকারিভাবে যখন নাগরিকদের এসব বিল মওকুফ করা দরকার তখন এই বাড়তি বিল মানুষের উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা এর মত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেেিত আমরা ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।

এসময় বাসদ নেতৃবৃন্দ জানান,করোনা টেস্টে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানী বন্ধ করা, করোনা রোগীদের জন্য ১০০০ শয্যা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং ১০০ আইসিইউ বেড নিশ্চিত করা, অবিলম্বে করোনা রোগী পরিবহনে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনা পরীার নমুনা সংগ্রহ করা, লকডাউনকৃত বাসায় প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করা, সকল এনজিও কিস্তি বাড়িভাড়া-মেসভাড়া মওকুফ ও ভূতুরে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করাসহ ৮ দফা দাবি আদায়ে আমরা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধের কর্সসূচি ঘোষণা করছি এবং দ্রত সময়ে দাবি না মানা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

Sharing is caring!