৭ বছর পর আমন আবাদে নেমেছেন কলাপাড়ার নিজামপুরের শতাধিক কৃষক

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥

অতিসম্প্রতি মেরমত করা ৮৮৫ মিটার এবং নতুন করে আরও চার শ’ মিটার মেরামত শুরু হওয়া বেড়িবাঁধের ওপর ভরসা রেখেই কলাপাড়ার নিজামপুরের কৃষকরা এবছর আমন ধানের আবাদে নেমেছেন। দীর্ঘ সাত বছর পরে আন্ধারমানিক পাড়ের শতাধিক কৃষক আমন ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। এবছর আন্ধারমানিকের পানি ঢোকেনি গ্রামটির আবাদি জমিতে। ডোবেনি বাড়িঘর, পুকুর। কিন্তু নির্মিত বাঁধে আমফানের আঘাত, তারপর কয়েকদফা অস্বাভাবিক জোয়ারের হানায় রিভার সাইটে দেয়া জিও ব্যাগ অনেকটা ডিসপ্লেস হয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েক বছর আগের বিকল্প বাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় কৃষকরা রয়েছেন শঙ্কাগ্রস্ত। তবে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন বিধ্বস্ত বাঁধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো জরুরি মেরামতের কাজ আজ, শনিবার শুরুর মধ্য দিয়ে। এবছর আর জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা থাকবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফিবছর অনাবাদি থাকা নিজামপুরের কৃষক আগেভাগেই জমিতে আমনের আবাদে নেমেছেন। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জমির রোপন কাজ শেষ হয়েছে। নিজামপুর গ্রামের নুরনবী গাজী জানালেন, প্রায় সাত বছর পরে এ বছর ১২ বিঘা জমির সবটাই চাষাবাদ করে রোপনের কাজ শেষ করেছেন। এভাবে সেরাজ হাওলাদার ১৬ বিঘা জমি আবাদ করেছেন। নুরইসলাম বেপারী আট বিঘা, মোস্তফা মল্লিক প্রায় ১০বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। চারাগুলো অনেকটা লক লক করে বেড়ে উঠছে। বাতাসে দোল খায়। কৃষকের প্রাণে-মনে স্বস্তি ফিরেছে। ছিদ্দিক মুন্সী জানান, দীর্ঘ প্রায় সাত/আট বছর পরে নিজামপুরের দক্ষিণ পাশের কৃষকরা আমনের আবাদ করছেন। ফি বছর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে আবাদি জমিতে। তলিয়ে যেত বাড়িঘর। এবারে এখন পর্যন্ত তা হয়নি।

অন্তত ১০০ চাষী বছরের পর বছর আমন আবাদ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। কেউবা যদিও আবাদ করেছেন; তা আবার শুকনো মৌসুমে লোনা পানি প্রবেশ করে নষ্ট করে দিয়েছে। একই দৃশ্য সুধীরপুর গ্রামের। মাঠজুড়ে সবুজের আস্তরণ। তা আরও গাড়ো হয়ে উঠেছে। সোনা মিয়া জানালেন, এবছর পাঁচ একর জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। মোটামুটি চারাগুলো বেড়ে উঠছে। তবে তিন বছরের লোনা পানির ঝাপটায় জমির মাটি নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ফলন নিয়ে তিনি কিছুটা শঙ্কিত রয়েছেন। এসব চাষীর দাবি আমফানে এবং পরবর্তী অস্বাভাবিক জোয়ারের কয়েক দফা তান্ডবে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তা মেরামত করতে হবে, তাইলে এবছর সকল চাষী কমবেশি আমন ধান ঘরে তুলতে পারবেন।

কৃষক বাদশা মিয়া জানান, এখন বাঁধটির রিভার সাইটে ব্লক দেয়া প্রয়োজন। মোটকথা কৃষকরা আমন আবাদ করতে পেরে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন। এখনও অর্ধেক চাষী রোপণের কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ওই এলাকার দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলী সৈয়দ তারিকুর রহমান জানান, পৌনে দুই কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করে আমফানের এক সপ্তাহ আগে সম্পন্ন করা নিজামপুর গ্রাম ঘেঁষা ৮৮৫ মিটার বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ কয়েছে। ওই বাঁধ ভাঙেনি। কিছু জিও ব্যাগ ডিসপ্লেস হয়ে গেছে। যা শুকনো মৌসুমে ঠিক করা হবে। আর পুরনো বাঁধের যে চারটি পয়েন্টের চার শ’ মিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে তা মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। ফলে এ বছর কৃষকের জলোচ্ছ্বাস শঙ্কার কারণ নেই।

Sharing is caring!