৪র্থ দিনে এমপিসহ বরিশালের ৬১৪৭ জনের ভ্যাকসিন গ্রহণ

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল বিভাগের ৪৩টি কেন্দ্রে চতুর্থ দিনের মতো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চতুর্থ দিনেও টিকাদান কেন্দ্রে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী মানুষের ভিড় পূর্বের দিনের থেকে বেশি ছিল। এদিনে বরিশাল-৪ আসনের এমপি পংকজ নাথসহ বিভিন্ন বিভাগের ৬টি জেলায় মোট ৬ হাজার ১৪৭ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এনিয়ে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গত চার দিনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন মোট ১৩ হাজার ২৫৪ জন। যার মধ্যে শুধু বরিশাল জেলায় ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৪৩২ জন। আর দেশব্যাপী ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে।

 

এদিকে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে কোন ব্যক্তির শরীরে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। যারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন তারা সকলেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস। তাই ভয় বা গুজবে কান না দিয়ে করোনা থেকে সুরক্ষায় ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

 

সরেজমিনে বুধবার দুপুরে বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালে করোনা টিকাদান কেন্দ্রে দেখাগেছে, গত সাত ফেব্রুয়ারি দুটি বুথ নিয়ে এখানে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে কেন্দ্রটিতে তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি। তবে দ্বিতীয় দিনে জেনারেল হাসপাতালসহ বরিশাল নগরীর অন্য তিনটি কেন্দ্রের টাকা গ্রহণের বুথ গুলোতে ভ্যাকসিন গ্রহণে আগ্রহীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সে অনুযায়ী বিগত তিন দিনের তুলনায় চতুর্থ দিনে ভিড় তিনগুণ বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকরা।

আলাপকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টিকাদান কেন্দ্রের একটি বুথের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কাজে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী সিনিয়র স্টাফ নার্স লাবনী আক্তার বলেন, ‘টিকা গ্রহণে মানুষের ভিড় দিন দিন বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত পজেটিভ রিপোর্ট ভ্যাকসিনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে টিকা গ্রহণকারীদের পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা না দেওয়াতে মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণে সাহস পাচ্ছেন।

 

পাশাপাশি টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত সহজ করায় আগ্রহীরা টিকা কেন্দ্রে ভিড় জমাচ্ছেন। যারা অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন তারা তো আসছেনই, সাথে স্পট নিবন্ধনের সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে যারা টিকা গ্রহণ করছেন তাদের মধ্যে স্পট নিবন্ধনকারীর সংখ্যাই বেশী। আর ভিড় বাড়ায় এখন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মানুষ ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন বলে জানান এই স্বেচ্ছাসেবী।
অপরদিকে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, ‘বিচ্ছিন্ন এ উপজেলায় ভ্যাকসিন গ্রহণে সাধারণ মানুষের মাঝে আগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি করোনা থেকে সুস্থ সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পংকজ নাথ।

 

এসময় তিনি বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন আমাদের জন্য খুশির বিষয়। অথচ এ নিয়ে বিশেষ মহল গুজব-গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। এ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে সবাইকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এমপি পংকজ নাথ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘বরিশাল বিভাগে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়ছে। কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন যেখানে এক হাজার ৪ শতাধিক ব্যক্তি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে সেখানে বুধবার এক দিনেই ৬ হাজার ১৪৭ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। আর শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ২৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

বিভাগে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের সংখ্যাও বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে সব থেকে বেশি। এখানে গত চার দিনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন মোট ৪ হাজার ৪৩২ জন। সবশেষ কার্যক্রম শুরুর চতুর্থ দিন অর্থাৎ বুধবার এক দিনেই বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ২ হাজার ২৩৩ জন।
এর আগে বরিশাল ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরুর দিনে বরিশাল জেলায় ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছিলেন মাত্র ৪৪৭ জন। দ্বিতীয় দিন সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৯২ জনে দাঁড়ায়। এরপর অর্থাৎ তৃতীয় দিন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন আরও এক হাজার ৩৬০ জন। সবশেষ চতুর্থ দিনে এর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে দুই লাখের ওপরে মানুষ ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেছেন। তার মধ্যে থেকে অল্প কিছু ব্যক্তি স্বাভাবিক জ¦র এবং শরীর ব্যথা অনুভব করেছেন। তবে বরিশাল বিভাগে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা কারোর শরীরেই কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমি (ডা. বাসুদেব কুমার দাস) নিজে, আমার স্ত্রী, ছেলে এবং আমাদের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণ করে আমরা এখনো সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছি। সারাদিন অফিস করছি। কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও সাধারণ জনগণের জন্য স্পট রেজিস্ট্রেশন করে তাৎক্ষণিক ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী সদস্য ছাড়াও ৪০ বছর ঊর্ধ্ব যে কোন সাধারণ নাগরিক চাইলেই করোনার টিকা নিতে পারছেন বলে জানান ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।