৩৯ বছর বয়সে ৩৮ সন্তানের মা তিনি

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৯

ছোটবেলা থেকেই খুব কষ্টের ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠেন উগান্ডার কামপালা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারী মারিয়ম নবট্যানজি। তিন বছর বয়সে মা ফেলে রেখে যাওয়ায় বড় হন দাদির কাছে। অভাব-অনটনের সংসারে মারিয়মের ১২ বছর বয়স না পেরোতেই একপ্রকার জোর করে দাদি তার বিয়ে দেন। বিয়ের এক বছর পরই মারিয়মের কোলজুড়ে আসে জমজ সন্তান। এতে বেশ খুশিও হয়েছিলেন তিনি। এ অবস্থা বছরের পর বছর চলতে থাকে। এক পর্যায়ে জীবনের ৩৯ বছরে জম্ম দিয়েছেন ৪২ টি সন্তান। এর মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছে ৩৮ জন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম বছরের জমজ সন্তানের পর এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে মারিয়মের। এক এক করে টানা চারবার জমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ততোদিনে তিনি বুঝতে পারেন কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে মারিয়ম চিকিৎসকের কাছে গেলে জানতে পারেন, তার ডিম্বাশয়ের আকার অত্যন্ত বড় এবং তিনি নিজেও ভীষণভাবে ফার্টাইল। এই অবস্থায় মারিয়মের গর্ভনিয়ন্ত্রণের অপারেশন করা হলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে বলে জানান চিকিৎসক।চিকিৎসক আরও জানান, কোনো গর্ভনিয়ন্ত্রক ওষুধও তার পক্ষে সেবন করা সম্ভব নয়, কারণ সেটি মারাত্মক হতে পারে। এসময় কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না মারিয়ম। এরই মধ্যে আট সন্তানের জন্ম দিয়ে ফেলেন তিনি।

স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে মারিয়ম বলেন, বারবার এভাবে একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়াটা বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু স্বামী তার কথায় মোটেও কর্ণপাত করেননি। আর এতে চিকিৎসকের আশঙ্কাই সত্যি হলো। পরপর চারবার ত্রিপলেট (এক সঙ্গে তিন সন্তান) এবং পাঁচ বার কোয়াড্রুপলেট (এক সঙ্গে চার সন্তান)-এর জন্ম দেন মারিয়ম। তিনি সব মিলিয়ে ৪২ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে চারটি সন্তান জম্মের পর মারা যায়।আড়াই বছর আগে শেষবার মা হয়েছিলেন মারিয়ম। সে বারও জমজ সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এদের মধ্যে একজন মারা যায়। এরপরই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন স্বামী। এ সময় অন্য এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

এদিকে, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মারিয়ম। তাকে জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছিল ভাগ্য। ৩৮ সন্তানকে ভালো শিক্ষা-খাবার কীভাবে দেবেন, সেটাই তাকে চিন্তিত করে তুলেছিল, তবে হাল ছাড়েননি তিনি।তখন তার দাদি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। কামপালায় যে বাড়িতে মারিয়মের সংসার এখন, সেটা তাকে করে দিয়েছিলেন দাদি। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।  নানা ধরনের কাজ করে সংসার চালান মারিয়ম।

মারিয়ম জানান, পুরো পরিবারের জন্য প্রতিদিন ২৫ কিলোগ্রাম ভুট্টা লাগে। আর্থিক অনটনের জন্য মাছ-মাংস খাওয়া খুব একটা হয় না। বড়রা রান্না এবং ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করে। কোনদিন কে কোন কাজ করবে, তার একটা রুটিন করা হয়েছে।তার ঘরের দেয়ালে সব সন্তানদের ছবি টাঙানো রয়েছে। এদের মধ্যে যারা অনেক দূর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে, তাদের গলায় সোনালী চকচকে মালাও পরিয়েছেন মারিয়ম।আফ্রিকার পরিবারগুলো তুলনামূলক বড় আকৃতির হয়। উগান্ডাতে প্রতি নারীর গড় সন্তান সংখ্যা ৫.৬, যা ওই মহাদেশের সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংকের মতে, সারা বিশ্বে নারীদের গড় সন্তান সংখ্যা ২.৪।