কলাপাড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

৩৮ শ’ কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড ইস্যু: রয়েছে বিত্তবানদের নাম

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০২০

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ১২ ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির প্রায় তিন হাজার আট শ’ ২৪ কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ২০ হাজার ১৫৩ কার্ডধারী সুবিধাভোগীর মধ্যে প্রায় চার হাজার ভুয়া কার্ড তৈরির মাধ্যমে ডিলারসহ জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে এ সংক্রান্ত কমিটি যাচাই বাছাইয়ের নির্দেশ দিলে এপরিমান কার্ড সংশোধন করা হয়েছে।

এরপরও আরও অধিতকর যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে সংশোধিত তালিকা সকল ইউনিয়নের ডিলার এবং ইউনিয়ন পরিষদে টানিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপরেও বর্তমান তালিকায় আরও শতকরা কমপক্ষে ১০ ভাগ নাম রয়েছে যারা স্বচ্ছল, বিত্তশালী, মেম্বার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। খাদ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চাকামইয়া ইউনিয়নের ৩৫৭টি, টিয়াখালীর ৮৭৮টি, লালুয়ায় ৬৩৩টি, মিঠাগঞ্জে ৩৭৪টি, নীলগঞ্জে ৩৫২টি, মহিপুরে ৯৬টি, লতাচাপলী ২৪৯টি, ধানখালীতে ১২৯টি, ধুলাসারে ৩১টি, বালিয়াতলী ২৪৬টি, ডালবুগঞ্জ ২৫৯টি এবং চম্পাপুরে ২২০ টি কার্ড সংশোধন করা হয়েছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এ কার্ডধারীরা বছরের মার্চ, এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নবেম্বর পাঁচ মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল নির্দিষ্ট ডিলারদের কাছ থেকে ক্রয়ের সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি নির্দেশনা রয়েছে গ্রামে বসবাসরত সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, ভূমিহীন, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, উপার্জনে অক্ষম, বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা/স্বামী পরিত্যাক্তা/অসচ্ছ্বল বয়স্ক নারী প্রধান পরিবার এবং যেসব দুঃস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী রয়েছে তারা এ তালিকায় অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা যাবেনা।

ভিজিডি কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপ্তদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত রাখা যাবে না। কিন্তু এসব তালিকায় সরকারি নির্দেশনা না মেনে জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করে ফেয়ারপ্রাইস কার্ডভুক্ত করেছেন। প্রভাবশালী, অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের একাধিক বক্তির নামও এ তালিকায় রাখা হয়। এমনকি হাজারো ব্যক্তির ব্যক্তির নাম মিলেছে যারা নিজেরাই জানেন না তাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় রয়েছে।

তিন সহ¯্রাধিক ভুয়া নামের চাল ডিলাররা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে বিক্রির এন্তার অভিযোগ ওঠে। যেন হরিলুট চলছিল। গণমাধ্যমে এনিয়ে খবর প্রকাশ হয়। এর প্রেক্ষিতে তালিকা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কমিটি।

Sharing is caring!