৩২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে পোল্ডার নির্মাণ কাজ চলছে- পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম- এমপি বলেছেন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবেলায় বিশ^ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় উপকূলীয় এলাকায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৯ টি পোল্ডার নির্মাণের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে ১০টি পোল্ডার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পোল্ডারও নির্মাণ করা হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়ার লামচড়ি এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৯ টি এবং পর্যায়ক্রমে বাকী পোল্ডারগুলো নির্মাণ করা হলে এই এলাকায় বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতি কমে আসবে এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত দশ বছরে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রসর হয়েছি। বাংলাদেশ সরকারের অভিষ্ট লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশীল দেশে পৌঁছানো। সে লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরাও সকলে কাজ করে যাচ্ছি।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লামচরি ও চরবাড়িয়া এলাকার মানুষের অনেক দুঃখ কষ্ট রয়েছে। আজ অনেকে তাদের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। আপনাদের মনের ক্ষোভকে আমি সম্মান জানাই। কারণ, আপনারা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। তার পর জনপ্রতিনিধি যদি আপনাদের কাজ না করেন তাহলে রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক।

প্রতিমন্ত্রী পূর্বের জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি সংসদ সদস্য হয়েছি মাত্র এক বছর সাত মাস। কিন্তু এর আগে যিনি তিন তিন বার সংসদ সদস্য ছিলেন, কি করেছেন আপনাদের জন্য। তাদের একজন ব্যক্তি যে সংসদীয় এলাকার জন্য কাজ করে না তাহলে তাকে বার বার কেন নির্বাচিত করেছিলেন। আমি মাত্র হয়েছি। প্রকল্প নেয়া শুরু করেছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে।

৫ বছরের সময়ের মধ্যে আমার সংসদীয় এলাকা উন্নত হয় কিনা সেটা দেখবেন। আর সেটা পরবর্তী নির্বাচনের সময় দিয়ে প্রমাণ করে দিবেন। আমি সততার সাথে কাজ করার চেষ্টা করি। তালতলী থেকে লামচরি পর্যন্ত সড়কের ৭২ টা অংশ ভেঙে গেছে। আমি শোনার পরে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিয়ে এসেছে। তিনি এটা দেখে যাবেন এবং কাজ করবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘একটা বিভাগীয় শহরের পাশে সদর উপজেলা যে এতোটা অনুন্নত থাকতে পারে আমার জানা ছিলো না। আমার আশ্চর্য লাগে যে আপনারা একই ব্যক্তিকে বার বার ভোট দিয়েছেন, অথচ আপনাদের এলাকার উন্নয়নে তিনি কোন কাজ করেননি। বরং নিজের আখের গুছিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সেখানে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত ত্রাণ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ এর সভাপতিত্বে এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা) মন্টু কুমার বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!