২৫ ডিসেম্বরের রাতে জেনারেল ওয়াশিংটন স্বাধীনতা যুদ্ধে জিতেও ক্ষমতা দখল করেননি

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০

তপন চক্রবর্তী ॥ ১৭৭৫ সালের ৪ জুলাই আমেরিকা কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিল এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীনত সার্বভৌম দেশ, তা আর ব্রিটিশদের উপনিবেশ নয়। এখন থেকে আমেরিকা নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী চলবে, ব্রিটিশ উপনিবেশ আর নয়। ইংরেজ শাসকরা এ দাবী মেনে নিল না ফলে শুরু হয়ে গেল আমেরিকার স্বাধীনতার যুদ্ধ। আমেরিকার পক্ষে অল্পকিছু নিয়মিত সৈন্য আর সব স্বেচ্ছাসেবী মুক্তিযোদ্ধা অন্য দিকে ব্রিটিশের পক্ষে নিয়মিত শক্তিশালী পৃথিবী বিখ্যাত সৈন্যবাহিনী যাদের সেনাপতি লর্ড কর্নওয়ালিশ। আমেরিকা সেনাদলের অধিনায়ক জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটন।

পৃথিবীর সব দেশে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম অবস্থায় যা হয় আমেরিকাও তার ব্যতিক্রম হলোনা। নিয়মিত শক্তিশালী সেনাদলের সামনে দাঁড়াতে না পেরে মার্কিন মুক্তিবাহিনী পিছু হটতেই লাগল।

 

অবস্থা এমন দাঁড়াল যে ১৭৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার সীমান্তে ডেলওয়ার নদীর অপর পারে আমেরিকার সৈন্য দল আশ্রয় নিল আর নদীর ওপারে ব্রিটিশ বাহিনী ঘাঁটি বসাল। ব্রিটিশ বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল শীতটা শেষ হলেই নদী পাড় হয়ে আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের খতম করে দেবে আর আমেরিকার স্বাধীনতার স্বপ্নও শেষ হয়ে যাবে। ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল। এখন ভাঙাচোরা অবস্থা শুধু অধিনায়ক জেনারেল ওয়াশিংটন ছিলেন স্থির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 

এমনি অবস্থায় ২৫ ডিসেম্বর সকালে জেনারেল ওয়াশিংটন হুকুম দিলেন আজ রাতেই নদী পার হয়ে আমরা ইংরেজ শিবিরে আক্রমণ করব। আদেশ শুনে সবাই অবাক। এই ভয়ানক শীতে নদীতে বড় বড় বরফ এর মধ্যে কামান বন্দুক নিয়ে আক্রমণ কি সম্ভব? তারপর ব্রিটিশরা যদি জানতে পারে তাহলে তো সর্বনাশ, একজনও ফিরে আসবেনা। কিন্তু ওয়াশিংটন অনড়। কামান বন্দুক অস্ত্রশস্ত্র নৌকায় তোলা হল। সন্ধ্যা বেলা চার মাইল নদীপথ তিন ঘণ্টায় অতিক্রম করে মার্কিন বাহিনী ইংরেজ শিবির আক্রমণ করল। ইংরেজরা এই আক্রমণ চিন্তাও করতে পারেনি। বড়দিনের রাতে সবাই ফূর্তিতে মাতাল হয়ে, কে যুদ্ধ করবে। মার্কিন মুক্তিযোদ্ধারা সহজেই স্বাধীনতার বড় যুদ্ধে জিতে গেল। এই যুদ্ধের ফলে পুরো মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী মুক্তিযুদ্ধ করেছিল।

 

অবশেষে ১৭৮৩ সালে ইংরেজ সেনাপতি আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের সমাপ্তি হয়। যুদ্ধ শেষে এক নতুন সমস্যা দেখা দিল- এই নব রাষ্ট্রের ক্ষমতা কে নেবে? সৈন্যরা সবাই জেনারেল ওয়াশিংটনকে চাপ দিল কিন্তু তিনি সৈনিকের পোশাকে ক্ষমতায় বসতে একেবারেই রাজি নন। অবশেষে তিনি ১৭৮৭ সনে সৈন্য বাহিনী থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ১৭৯০ সালে তিনি নির্বাচন করে পরপর দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলেন।

 

আজকের তার সৃষ্টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর এক নম্বর দেশ। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি যদি এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করত পৃথিবীর চেহারাটাই হয়তো পাল্টে যেত। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ১৯৮৩ সালে মন্তব্য করেছিলেন যে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দেশটাকে তিন তিনবার দখল করেছে। এভাবে মানুষের অধিকার কে তৃতীয় বিশ্বে বার বার অস্বীকার করা হয়েছে। অথচ জেনারেল ওয়াশিংটন কি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।