২০২১ সালে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ছাড়াবে মোংলা বন্দর

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

মোঃ মিজানুর রহমান,মোংলা প্রতিনিধি ॥

সময়ের সাথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলা। আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল করতে এ বন্দরে প্রতিনিয়ত যুক্ত করা হচ্ছে

অধ্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে একটি উন্নত ও লাভজনক বন্দর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এ বন্দর। করোনা সংক্রমণের মধ্যেও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক ভাবেই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা ২০২১ সালে এ বন্দরে ১ হাজারেরও বেশি জাহাজ আগমন করবে। পদ্মা সেতু চালু হলে অন্যান্য সমুদ্র বন্দরের তুলনায় এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে কয়েকগুণ। করোনা ভাইরাসের প্রভাব দেশের অন্যান্য বন্দরগুলোতে পড়লেও মোংলা বন্দরে তেমন একটা পড়েনি। বিশেষ করে বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোঃ শাহজাহান,পিএসসি,বিএন মোংলা বন্দরে যোগদানের পরপরই বন্দরের সবগুলো সেক্টরের কার্যক্রমে তিনি নিয়মিত তদারিক করেন। তার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে করোনার প্রভাব থাকা সত্ত্বেও বন্দরের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল থাকে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গত অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমুদ্র বন্দর। এ বন্দর দিয়ে নিয়মিত পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় আগামী অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় রেকর্ড ছাড়াবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম.শাহজাহান বলেন, দেশে করোনার সংক্রমণ থাকলেও বন্দরের আমদানি রপ্তানিতে কোন ভাটা পড়েনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনার সঠিক নির্দেশনা সবাই মেনে চলায় বন্দরের কার্যক্রম বরাবরই গতিশীল। তিনি আরো জানান, মোংলা বন্দরে আগত বিদেশী জাহাজগুলোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জাহাজের নাবিক ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই নানামুখী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দিন দিন বন্দরের রাজস্ব আদায় বেড়েই চলছে। আগামী ২০২১ সালে বন্দরের রাজস্ব আদায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন বন্দরের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে ৯০৩টি জাহাজ আসে এবং এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডেলিং হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, বিগত অর্থ বছরের তুলনায় যেসব পণ্য এসেছিল তার থেকে সামান্য পরিমাণ কম এসেছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বন্দরের দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পের কর্যক্রমে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম.শাহজাহান বলেন, সরকারের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বন্দরের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে কয়েকটি চলমান রয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হলে বন্দরের আমদানি রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে। আমরা সে প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে নিয়ে রেখেছি। মোংলা বন্দরে প্রতিবছর জাহাজ আগমনের সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম। গত ১০ বছরে এ বন্দরে জাহাজ আগমন বেড়েছে ৫ গুণ। ২০২১ সালে এ বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ১ হাজারে দাঁড়াবে।

 

Sharing is caring!