১৪ বছরেও পূর্ণতা পায়নি বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ : নেই পেট্রোল টিম

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

যানজটে দিশেহারা ট্রাফিক
জরুরী প্রয়োজনে মোবাইল ম্যানেজমেন্ট টিম

জুনাইদ খন্দকার ::

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৪ বছর পূর্বে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চারটি থানা নিয়ে গঠিত মেট্রোপলিটন এলাকায় নাগরিকদের সেবা দিয়ে আসছে পুলিশ। তবে প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পরেও পূর্ণতা পায়নি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বিশেষ করে নগর পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক বিভাগটিতে রয়েছে সংকটের পর সংকট। নেই নিজস্ব কার্যালয় এবং পর্যাপ্ত জনবল। এমনকি প্রত্যেক মেট্রোপলিটন এলাকায় যানজট নিরসনে পেট্রোল টিমের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বরিশাল মেট্রোপলিটনে তা আদৌ সৃষ্টি হয়নি। এসব কারণে সড়কে যানজট নিরসনে হিমসিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকে।

জানাগেছে, ‘সময়ের সাথে সাথে বরিশাল মহানগরীতে বেড়েছে জনসংখ্যা। সেই সাথে বেড়েছে যানবাহন। যার কারণে বরিশাল নগরী এখন যান জটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৪ বছর অতিক্রম করলেও যানজট নিরসনে বিশেষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

নগর ট্রাফিক বিভাগের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ট্র্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় পেট্রোল টিমের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র বরিশাল মেট্রোপলিটনে পেট্রোল টিমের কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট, টিএসআই, এটিএসআই এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাই যানজট নিরসনে বাড়তি ভূমিকা পালন করছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুল করীম জানান, ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ, টিআই, সার্জেন্টসহ বর্তমানে মোট ১৩১ জন জনবল রয়েছে। অথচ চাহিদা রয়েছে ১৮৭ জনের। সংকট রয়েছে ৫৬ জনের। ফলে যানজট নিরসনেও কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকে।

বিশেষ করে শহরের প্রাণ কেন্দ্রে সদর রোড, গির্জা মহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, চক বাজার, লঞ্চঘাট মোড়ে সকাল সন্ধ্যা যানজট লেগে থাকে। স্বল্প জনবল নিয়ে এসব এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছে ট্রাফিক বিভাগ। এর ফলে কোন কোন সময় ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং ট্রাফিক ইন্সপেক্টরদেরও দেখা যায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানজট নিরসনকল্পে কাজ করতে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান বাবুল বলেন, ‘প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন যানবাহন বাড়ছে। কিন্তু রাস্তা প্রশস্ত হয়নি। আবার লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের কারণে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে নিস্তার পেতে সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। কিন্তু বরিশাল সিটিতে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে। এ কারণে যানজটও নিরসন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘যানজটের কাছে ট্রাফিক বিভাগ অসহায়। তারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও যানজট নিরসনে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই যানজট নিরসনে এখনই সমন্বিত পরিকল্পনার পাশাপাশি বিকল্প ভাবনা ভাবা প্রয়োজন বলে মনে করেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক জিয়াউল হাসান বাবুল।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘নগরীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে যানজট নিরসনে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মেট্রোপলিটন এলাকায় যানজট নিরসনে পেট্রোল টিমের প্রয়োজন। কিন্তু লোকবল সংকেটর কারণে পেট্রোল টিম গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ টিমকে সাথে নিয়ে কাজ করলে যানজট নিরসন আরও সহজ হতো। তবে আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ পেট্রোল টিম পাবে। আর এটি সংযুক্ত হলে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী ট্রাফিক বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

তবে পেট্রোল টিম না থাকলেও মোবাইল ম্যানেজমেন্ট টিম দিয়ে আপাতত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান- বিপিএম (বার)।

তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করছে। বিশেষ প্রয়োজনে তাদের সাথে মোবাইল ম্যানেজমেন্ট টিম মাঝে মধ্যে কাজ করছে। যদি আলাদাভাবে পেট্রোল টিমের প্রয়োজন হয় তবে সেটাও করা হবে। তবে অনেক সময় জনবল সংকটের কারণে আলাদাভাবে কোন টিম গঠন করা সম্ভব হয়না বলেও জানান তিনি।

Sharing is caring!