১২ বছর শিকলবন্দী মেধাবীর শেষ পরিণতি কী


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯

ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের টুংরাপাড়া গ্রামে মৃত মালেকের বাড়ির একটি ঘরে গিয়ে দেখা মেলে অন্যরকম এক দৃশ্য। পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শিকলবন্দী অবস্থায় বসে আছেন বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। পাতলা ওই কাপড় ছাড়া পরনে আর কিছু নেই। শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে কোনো একটা কিছু গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবছেন। হয়তো ভাবছেন জীবনের মানে কী তবে মৃত্যুর প্রতীক্ষা নাকি অন্যকিছু।

কবিগুরু তার গানে লিখেছেন, ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে/তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে’-মৃত্যুই যে সত্য, অলঙ্ঘনীয় আর নান্দনিক- এমন রবীন্দ্রচিন্তা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেন এক সময়ের দুরন্ত মেধাবী ছাত্র বজলুর রহমান। তবে মৃত্যুর প্রতীক্ষা ব্যতীত তার জীবনে কি একটু শান্তি, আশা কিংবা কামনা থাকবে না!আনুমানিক দেড়ফুট লম্বা শিকল তার পায়ে লাগানো। শিকলটি কয়েকটি তালা দিয়ে মেঝের মাঝখানে পোঁতা একটি বাঁকা লোহার সঙ্গে আঁটকানো। মৃত্যু ছাড়া যেন আর কেউ বজলুর রহমানকে ছিনিয়ে না নিতে পারে।

ঘরে মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করায় প্রতিদিন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়। অপুষ্টিতে ভোগা শরীর ও চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে ৪৮ বছর বয়সেই। কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রলাপ বকেন, স্মৃতি নষ্ট হওয়ায় সন্তানদের কথাও কিছু বলতে পারেন না।বজলুর রহমানের বৃদ্ধা মা জানান, প্রায় ২০/২২ বছর পূর্বে তার ছেলে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাও করা হয়েছে। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর বিয়ে করানো হয়। বিয়ের পর সিফাত ও সুপ্তি নামে দুটি কন্যা সন্তান হয়।মানসিকভাবে পুনরায় আগের মতো হয়ে যেতে থাকলে সংসারের পাঁচ-ছয় বছরের মাথায় বজলু ও তার দুই মেয়েকে ফেলে তার চলে যায় স্ত্রী।

সেসময় মস্তিষ্ক বিকৃত হওয়ার কারণে নানা রকম তাণ্ডব করায় নিরাপত্তার জন্য ভাইয়েরা তাকে শিকলে বেঁধে ঘরবন্দী করেন।এ অবস্থায় ঘুমান কীভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাঁটু গেড়ে মেঝেতে উবু হয়ে অথবা বসা অবস্থায় ঘুমান।প্রায় ১২ বছর ধরে এমন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাফল্যের সঙ্গে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এস সি, এজি, অনার্স পাস করা বজলুর রহমান।

এ বিষয়ে কথা হয় তার সহপাঠি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক মানিকের সঙ্গে।তিনি জানান, ৮৮/৮৯ ব্যাচে তারা দুজনেই এক সঙ্গে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি, এজি অনার্সে ভর্তি হন। বজলু এ সেকশনে সোহরাওয়ার্দী হলে আর তিনি বি সেকশনে আশরাফুল হক হলে থেকে অধ্যয়নরত ছিলেন।তিনি জানান, বজলু লেখাপড়ায় বরাবরই এগিয়ে থাকতো। দেখা হলে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতো। সেশন জটের কারণে ১৯৯৬ সনে তারা অনার্স ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

কিছুদিন আগেই ভাইদের তত্ত্বাবধানে বজলুর রহমানের দুই মেয়ে লেখাপড়া চলাকালে বড় মেয়ে সিফাতের বিয়ে দেওয়া হয়। ছোট মেয়ে সুপ্তি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছে।পরিবারের লোকজন তথা মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মানসিক রোগের যথেষ্ট চিকিৎসা করে অনেক টাকা পয়সা নষ্ট করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।সরকারের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, বজলুর রহমানকে এ অবস্থা হতে উদ্ধার করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে একজন কৃষিবিদকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা হোক