১শ দিন পরে কুয়াকাটায় খুলেছে হোটেল মোটেল দোকানপাট

প্রকাশিত: ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২০

কলাপাড়া প্রতিনিধি ॥ টানা ১০০ দিন পরে কুয়াকাটায় হোটেল-মোটেল, দোকানপাট খুলেছে। ছিটেফোঁটা পর্যটকের পদচারণাও ছিল। করোনার প্রভাবে শঙ্কিত মানুষ ঘরবন্দী থাকায় গতকাল বুধবারে গুটি কয়েক পর্যটকের দেখা মিলেছে। মরণঘাতী করোনার প্রভাবে সব যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন পহেলা জুলাই থেকে হোটেল-মোটেল খুলে দেয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে হোটেল-মোটেল।

ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-মোটেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পর্যটক ব্যবস্থাপনা যেন করোনা প্রতিরোধক হয় কর্মীদেরকে তা রপ্ত করানো হয়েছে। যেখানে হোটেল বাইরের এবং ভিতরের এলাকা জীবাণুমুক্তকরণ, হোটেলের গাড়ি পার্কিং অঞ্চলসহ যানবাহন জীবাণুমুক্তকরণ, সিকিউরিটিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, দর্শনার্থীদের অনুপ্রবেশ পয়েন্টে এবং সহায়ক কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, দর্শনার্থীদের জন্য জীবাণুমুক্ত চেম্বার ও হাত, মুখ ধোয়ার জন্য বেসিন সাবান ব্যবহারের সুযোগ থাকা, ফ্রন্ট ডেস্কসহ লাগেজ জীবাণুমুক্তকরণ, প্রত্যেক দর্শনার্থীকে ইনফ্রারেড থারমাল স্ক্যানার স্ক্যানিং প্রক্রিয়া দ্বারা সুরক্ষা করা, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস নিশ্চিতকরণ, চেকিংপূর্ব নিবন্ধিত দর্শনার্থীর তাপমাত্রা লিপিবদ্ধ করা, হোটেল ব্যবস্থাপককে অবশ্যই ডেস্ক, লবি, আসবাবপত্র, সাধারণ স্থান, করিডোর, সিঁড়ি, রেলিং, দরজা এবং হ্যান্ডেল, সমস্ত টয়লেট স্যানেটাইজার নিশ্চিত করা, বয়, আয়া, কর্মচারীদের টয়লেট আলাদা থাকা।

এভাবে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রয়েছে। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের জন্য সকল সুরক্ষার পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। প্রথমদিন গুটি কয়েক পর্যটক এসেছেন। তবে তিনি আশা করছেন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। পর্যটকের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা।

কুয়াকাটায় প্রায় ১২০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। যার মধ্যে ৭০ টি এই অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত। এরা সবাই জানালেন, করোনাকালীন লোকসান কখনও আর পোষাতে পারবেন না। কিন্তু করোনা প্রতিরোধে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-মোটেল তৈরি রাখা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এবং শেষ বিকেলে দুই চারজন পর্যটককে সৈকতে দেখা গেছে ঘুরতে। পরিচ্ছন্ন সৈকতে ঘুরতে পেরে তারা খুশি। চারজন বাণিজ্যিক ক্যামেরাম্যানকে দেখা গেছে। সরোয়ার এদের একজন, জানান, দুপুর পর্যন্ত কোন ছবি তুলতে পারেননি। দেখা গেছে চারজন চটপটি বিক্রির দোকানিকে। জানালেন, টুকটাক বেচাকেনা করছেন। কিছু কিছু দোকানপাট খোলা রয়েছে।

কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল ব্যবস্থাপনা করতে হবে।