হয়রানিমূলক মামলা থেকে মুক্তি পেতে নারী ইউপি সদস্য’র সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. লাকি বেগম ও তার ছেলেকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বেলা ১২টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ওই ইউপি সদস্য।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য লাকি বেগম বলেন, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের চক্রান্তে মামলা দায়ের করে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করা হয়েছে। তাই তিনি এ মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

লাকি বেগম আরও বলেন, আমি জাতীয় পার্টি (জেপি) ইন্দুরকানী উপজেলার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। আমার ছেলে সাগর (১৮) খুলনা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছে। ইন্দুরকানী উপজেলা তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হলেও, পরবর্তীতে সেখানে ৫ টি ইউনিয়নে রূপান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথমে আমি বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও, ইউনিয়নের সংখ্যা বাড়ানোয় বর্তমানে চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছি। সেই সাথে চন্ডিপুর ইউনিয়নের আওতাভুক্ত ইউপি সদস্য হতে হয়েছে। আর বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতির বাড়ি বালিপাড়া ইউনিয়নের মধ্যে হওয়ায় তিনি সেখানকার চেয়ারম্যান থেকে যান।

ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্ত হওয়ার আগেই বালিপাড়া ইউনিয়নে এলজিএসপি খাতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বরাদ্দ আসে। কিন্তু ইউনিয়নে বিভক্তি হওয়ার পরে সেই টাকার সবটুকুই চেয়ারম্যান বালিপাড়ায় রেখে দিতে চাইলে ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী অর্ধেক টাকা চন্ডিপুর ইউনিয়নে দেওয়ার জন্য দাবি তুলি। নইলে রেজ্যুলেশনেও সই দিতে অপারগতা জানাই। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইউপি সদস্য বলেন, গত ২৩ জুলাই আমার এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল ফকিরের বাড়ি থেকে ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যান দিনমজুর মাসুম শেখ। বিষয়টি ফয়সাল ফকির তাকে জানালে তিনি উভয়পক্ষকে ডাকেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। এসময় দিনমজুর মাসুম শেখ তার মা মোনারা বেগমের সামনে টাকা চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। স্থানীয় মীমাংসায় চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ত্রিশ হাজার পরের দিন এবং এক মাস পর এনজিও থেকে লোন নিয়ে বাকি ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে যান মোনারা বেগম।

কিন্তু পরের দিন মোনারা বেগম ও তার ছেলে না আসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তারা বালিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনের প্রত্যক্ষ প্ররোচণায় মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে থানায় মামলা করেছেন। যেখানে তারা ১৯ বছরের মাসুম শেখকে ১৬ বছরের নাবালক দেখিয়ে অভিযোগ করেছেন, ফয়সাল ফকিরের কিছু টাকা খোয়া যায় আর সেই টাকার জন্য মাসুম শেখকে মারধর ও শরীরে মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলেও মামলায় এমন তথ্য দিয়ে মূল ভুক্তভোগী ফয়সাল ফকির এবং ইউপি সদস্য লাকি বেগম ও তার ছেলে সাগরকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইউপি সদস্যের স্বামী আনোয়ার হোসেনকে মামলায় আসামি না করার জন্য ইন্দুরকানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এ এম মাহবুবুর রহমান ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। যেখানে ৮ হাজার টাকা দিয়ে আনোয়ার হোসেনের নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় বলেও দাবি লাকি বেগমের।

তিনি আরও জানান, ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিভিন্ন সময়ে মিথ্যে মামলা নেওয়াসহ নানাভাবে জনসাধারণকে হয়রানি করেন। যার প্রতিবাদ করায় তিনিও তার ওপর ক্ষিপ্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, সালিসের আগে কেউ বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করেনি। যখন নির্যাতনের শিকার ছেলেটির মা আমাদের বিষয়টি জানান এবং অভিযোগ দেন তখনই আমরা বিষয়টি জানতে পারি। অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে ওই নারী ইউপি সদস্যের স্বামী নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। এক্ষেত্রে যতো অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা মিথ্যে। তিনি আরও জানান, ওই নারী ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে মাদক (ইয়াবা) মামলা রয়েছে। যেখানে চার্জশিটও দিয়েছে পুলিশ।

Sharing is caring!