হিজলা বন্দরে দোকান মালিকের ঘাড়ে চেপেছেন প্রভাবশালী ভাড়াটিয়া!

প্রকাশিত: ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশালের হিজলায় দোকান মালিকের ঘাড়ে চেপে বসেছের প্রভাবশালী ভাড়াটিয়া। ভাড়াটিয়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি দখলে রেখেছেন প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দফায় দফায় সালিস বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলেও তাতে কর্র্ণপাত করছেন না ওই ব্যবসায়ী। বরং দোকানের তালা ভেঙে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করেছেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে সালিস বৈঠকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলেও গোপনে ভাড়াটিয়ার পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান, বাজার কমিটি এবং থানা পুলিশ। আর তাই অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে রাখা ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক এলাকার বাসিন্দা আয়নাল খাঁর মালিকানাধীন হিজলা উপজেলার কাউরিয়া বন্দরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৫ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেয় উপজেলার চর নরসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মাসিক ভাড়া নির্ধারণ হয় ৩৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ভাড়াটিয়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এজন্য ভাড়াটিয়া দেলোয়ারকে দোকান খালি করে দিতে বলেন মালিক আয়নাল খাঁ। এর পর থেকেই শুরু হয় ভাড়াটিয়ার টালবাহানা।

আয়নাল খাঁ জানান, ‘নতুন করে প্রতিষ্ঠানটি ২ লাখ টাকা জামানতে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দিবেন তিনি। কিন্তু বর্তমান ভাড়াটিয়া দেলোয়ার তাতে রাজি হননি। তাই অপর এক ব্যক্তির কাছে দুই লাখ টাকা জামানত রেখে প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমান ভাড়াটিয়া দেলোয়ার প্রতিষ্ঠান খালি করে না দেয়ায় নতুন ভাড়াটিয়া তার কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না।

আয়নাল খাঁ অভিযোগ করে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আজ না কাল বলে দোকান ছাড়বেন বলে জানান। পরবর্তী এ নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান তালুকদার ও ইউপি সদস্য জয়নালের উপস্থিতিতে গত বছর ১৪ জুলাই বিষয়টি নিয়ে সালিস মীমাংসা হয়। সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে ঘর খালি করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দেলোয়ার। পাশাপাশি সালিস মেনে দেলোয়ারকে তার জামানাত হিসেবে জমা থাকা ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন ঘর মালিক আয়নাল। কিন্তু মাস পেরিয়ে গেলেও দোকান নিজ দখলে রাখেন দেলোয়ার। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি সামনে এসে গেলে ঘর ছাড়ার জন্য আরও এক মাস সময় চেয়ে নেন দেলোয়ার। কিন্তু ওই সময় পেরিয়ে গেলেও দোকান দখল মুক্ত করেননি তিনি। তাই এক মাসের মাথায় দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন আয়নাল। ফলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।

আয়নাল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলে চলতি বছরের গত ১৬ জুলাই সার্কেল এএসপি থানা পুলিশ পাঠিয়ে ওই দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সার্কেল এএসপি’র সাথে কথা বলে এক সপ্তাহের সময় নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই আবার দোকানের তালা খুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি গত ২ আগস্ট বিষয়টি স্থায়ীভাবে মীমাংসার কথা ছিলো। কিন্তু তা না করায় দোকান মালিক পুনরায় তার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। খবর পেয়ে দেলোয়ার ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের নিয়ে বুধবার সকালে ওই তালা ভেঙে দোকানটি দখলে নেয়ার পাশাপাশি ভবন এবং জমির মালিকানা দাবি করেন।

আয়নাল জানান, ‘ঘটনাটি সার্কেল এসপিকে জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী মামলা করতে হিজলা থানায় গেলেও ওসি পুলিশ সুপারের দোহাই দিয়ে মামলা না নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার বলেন, ‘স্থানীয় বাজার কমিটি এবং চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসা করে দিয়েছেন বলে শুনেছি। করোনা পরিস্থিতি ঠিক হওয়া পর্যন্ত ভাড়াটিয়া দোকানে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তার মধ্যেই দোকান মালিক অন্যের কাছে প্রতিষ্ঠান ভাড়া এবং দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে ভাড়াটিয়া সেই তালা ভেঙে ফেলেছেন বলে শুনেছি।

মামলা না নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘আমার কাছে এযাবত কেউ মামলা করতে আসেননি। তবে শুনেছি ওই বিষয় নিয়ে একজন থানায় এসেছিলেন। তার সাথে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া এটি আইনের মধ্যে থাকলে অবশ্যই এ বিষয়ে মামলা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মুলাদী সার্কেলের এএসপি আনিসুল করিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এখানে মালিক এবং ভাড়াটিয়া উভয়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আছেন। তাছাড়া মালিক যেখানে ভাড়া বেশি পাবেন সেখানেই ভাড়া দিবেন এটাই স্বাভাবিক। তার পরেও দোকানের মালিকের দাবির প্রেক্ষিতে তাকে থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে। আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!