হিজলায় ভুয়া মালিক সেজে চোরাই গরু নেয়ার পাঁয়তারা

প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

হিজলা প্রতিনিধি ::

বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের মাটিয়ালা ও এর পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে প্রতিনিয়তই উদ্ধার হচ্ছে চোরাই গরু। জানাযায় একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে নিয়ে আসে ঐ মাটিয়ালা এলাকায়। বিভিন্ন সময় ঐ এলাকা থেকে মাটিয়ালা ফাঁড়ির পুলিশ ও হিজলা থানা পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে গরু উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, চোরাই গরু পুলিশ উদ্ধার করলেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের সুপারিশে প্রকৃত গরুর মালিক না পেলেও ভুয়া গরুর মালিক সাজিয়ে পুলিশের কাছে উপস্থিত হয়। এব্যাপারে সরোজমিনে গিয়ে জানাযায়, গত ১২ জুলাই ধুলখোলা গ্রামের হানিফ সরদারের বাড়ি থেকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বেওয়ারিশ হিসেবে ১ টি গরু উদ্ধার করে মাটিয়ালা ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশ দীর্ঘদিন গরুর মালিক না পেয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

সেই বেওয়ারিশ গরু উদ্ধারের পর থেকেই হানিফ সরদার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলেযান। বর্তমানে হানিফ গরুর মালিক সেজে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপেক্ষিতে আদালত ঐ গরুর প্রকৃত মালিক কে তা জানানোর জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

ঐ চক্রের সদস্যরা গোপনে জনপ্রতিনিধিদের কে ম্যানেজ করে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ভুয়া তথ্য দিয়ে ভুয়া গরুর মালিককে প্রকৃত মালিক সাজিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। কিভাবে বেওয়ারিশ গরুর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুশান্ত দাস বলেন, ঐ খানের এ অবস্থা আমি বুঝতে পারিনি, আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেই প্রতিবেদন দিয়েছি। কিন্তু গরু ক্রয় বিক্রয় নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ঐ চক্রটিকে স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নিয়ন্ত্রণ করছেন। যার ফলে চোর চক্রটি ঐ স্থানকে নিরাপদ মনে করে সেখানে গরু এনে রাখে। এককথায় বলা যায় গরু চুরি চক্রের বড় একটি সিন্ডিকেট সেখানে অবস্থান করছে। যার কারণেই নোয়াখালি, হাইমচর, ভোলা সহ বিভিন্ন এলাকার চোরাই গরু প্রতিনিয়তই সেখান থেকে উদ্ধার করছে পুলিশ। কিন্তু ঐ চক্রটি অধরাই রয়ে যায়।

হিজলা থানার অফিসার ইনচার্জ অসীম কুমার সিকদার জানান, ধুলখোলা ইউনিয়নের মাটিয়ালা সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে ঐ এলাকায় ও বিভিন্ন বাড়িতে রাখে, যার ফলে আমরা ঐ এলাকা থেকে বেওয়ারিশ গরু পেয়ে উদ্ধার করে, কাগজপত্র আদালতে প্রেরণ করি। কিন্তু একটি চক্র ভুয়া মালিক সাজিয়ে আদালতের মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে গরু নিয়ে যায়, সেখানে আমাদের কিছুই করার থাকে না।

Sharing is caring!