হিজলায় জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি : খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

হিজলা প্রতিনিধি ॥ বরিশালের হিজলায় মেঘনার নদীর জোয়ারের পানি চার থেকে পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৭ টি গরু ও ১৩ টি ছাগল মারা গেছে। নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক গবাদি পশু। উপজেলার ধুল খোলা ইউনিয়নে ৩৬ বসত ঘর ও দশটি দোকানঘর প্রবল জোয়ারের পানিতে ভেসে যায়। উপজেলার সকল ইউনিয়নের প্রায় ৮০% পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পানের বরজ ও কৃষি ফসলের। অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা, এরইমধ্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অনেক এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়ায় খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখা যায় ৫ জুলাই বিকেল তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে প্রবল জোয়ারের পানি চার থেকে পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে হিজলা গৌরনদী, মেমানিয়া, ধুলখোলা, হরিনাথপুর, গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের আংশিক এবং বড়জালিয়া ইউনিয়নের বাউশিয়া, পুরাতন হিজলায় একদিকে নদী ভাঙন অন্যদিকে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বসত গড়ে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্না না করতে পেরে খাদ্য সংকটে পড়েছে এ সকল পরিবার।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও চরাঞ্চলও নদীর পাড়ের মানুষ কে কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা দেয় নেই বললেই চলে শুধু একটি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৩ টি পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল সহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার জানান ওই ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গায় পানিতে প্লাবিত মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছে রান্না না করতে পারায়।

ধুলখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ জানান তার ইউনিয়নে ৭ টি গরু ও ছাগল মারা গেছে এবং অনেক গবাদিপশুর নিখোঁজ রয়েছে।

হিজলা গৌরবদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন বলেন, ইউনিয়নের চার দিকেই রয়েছে মেঘনা নদী। ১ ঘণ্টায় চার থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসরত মানুষ তাদের গবাদি পশু এবং ঘরে থাকা সয়াবিন সহঅন্যান্য জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারেনি। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, ৬৯ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, একটিতে ১৩ টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে তাদের মাঝে চাল ডাল তেল সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েেেছ।

Sharing is caring!