হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আগৈলঝাড়ায় হা-ডু-ডু খেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা  ::

আধুনিক সভ্যতার ক্রমঃবিকাশে হারিয়ে যাওয়া দেশের ঐহিত্যবাহী জাতীয় খেলা কাবাডি বা হা-ডু-ডু খেলার অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও পরস্পরের মধ্যে স¤প্রীতির বন্ধন অটুট রাখতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে হা-ডু-ডু খেলা।

গৈলা যুব সংঘের উদ্যোগে বুধবার বিকেলে গৈলা ইউনিয়নের বড়ইতলা বালুর মাঠে হা-ডু-ডু প্রীতি ম্যাচ খেলায় অংশগ্রহণ করে বড়ইতলা একাদশ বনাম শরিফাবাদ একাদশ।

প্রায় বিলুপ্তির পথে জাতীয় এই খেলাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই তৈরি হয় উৎসব মুখর পরিবেশ। নারী পুরুষসহ সকল বয়সী দর্শনার্থীর খেলা উপভোগ ছিল লক্ষণীয়।

খেলার আয়োজক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ আকন বলেন, আগে দেশের ছেলে মেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রাধান্য দিয়ে রোজ বিকেলে স্কুল ছুটির পরে গ্রামীণ খেলায় মাতোয়ারা থাকতো। তাতে খেলার পাশাপাশি তাদের শরীর চর্চা ও মনন বিকাশ ঘটতো। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করেছে লুডু, ক্যারাম, ক্রিকেট, টিভি, কম্পিউটার গেম। বাঙালীর আদি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে “গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন” গঠন করা দরকার বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। তাতে আগামী প্রজন্ম আমাদের এসব খেলাকে জানতে পারবে, ভুলে যাবে না আমাদের শত বছরের নিজস্ব ক্রীড়া ও ঐতিহ্যকে।

খেলার উদ্যোক্তা আবুল বশার সরদার বলেন, গ্রামবাংলার প্রাচীনতম কাবাডি (হা-ডু-ডু) খেলা আমাদের দেশের জাতীয় খেলা হলেও এখন তা হারিয়ে যেতে বসেছে কালের অতল গহ্বরে। জাতীয় এই খেলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় আগামী বছরেও হা-ডু-ডু খেলা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দেশের জাতীয় খেলাকে টিকিয়ে রাখা ও যুব সমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখত বিকেলে বেলায় খেলায় আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি গ্রামের মানুষের সাথে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে প্রতি বছরই আয়োজন করা দরকার। এ ধরনের খেলার আয়োজন করলে দেশে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ও তৈরী হবে।

খেলা পরিচালনা করেন নুর মোহম্মদ গাজী, তালুকদার মনিরুজ্জামান মনির ও হাফিজুল সরদার।
খেলায় শরিফাবাদ একাদশ গৈলা একাদশকে দুই গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করে। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

Sharing is caring!