হাতুড়ি পিটিয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর বৃদ্ধের আত্মহত্যা!

প্রকাশিত: ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

চাঁদপুর সদর উপজেলার গুলিশা গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী বেবী বেগমকে (৪৫) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তার স্বামী খোরশেদ আলম পাটওয়ারী (৬০) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।আজ রোববার সকালে চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরগামী ডেম্যু ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে খোরশেদ আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি ও একটি স্ক্র ড্রাইভার উদ্ধার করে।অভিযোগ ওঠে, এর আগে ভোরে স্ত্রী বেবী বেগমকে নিজ বাড়িতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং  কুপিয়ে হত্যা করে খোরশেদ। পরে ঘরে তালা লাগিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

হত্যার শিকার বেবী বেগম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাঁসা গ্রামের শেখ বাড়ীর মৃত আবুল হাশেম শেখের মেয়ে এবং খোরশেদ আলম সদরের বালিয়া ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাড়ীর মৃত আবদুল কুদ্দুছ পাটওয়ারীর ছেলে। বেবী-খোরশেদ দম্পত্তির ৩ মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের সকলেরই বিয়ে হয়েছে।নিহত বেবী বেগমের ভাই মফিজুল ইসলাম জানান, সকালে তার বোনজামাই খোরশেদ আলম ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলে সদর হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যু সংবাদ আসে। দ্রুত তারা সংবাদটি দিতে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখেন, দরজায় তালা দেওয়া। পরে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে বেবী বেগমের রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। ঠিক কী কারণে এই ঘটানাটি ঘটেছে, তার সঠিক কোনো কারণ জানাতে পারেনি নিহতদের পরিবার।

তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রায়ই খোরশেদ আলম তার স্ত্রীকে মারধর করতেন।  নিহত দম্পতির ৩ মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় খোরশেদ ও তার স্ত্রী বেবী একাই বাড়িতে থাকতেন ।নিহত বেবী বেগমের মেজো মেয়ে আয়শা আক্তার বলেন, ‘বাবা প্রায়ই আমার মায়ের গায়ে হাত তুলতো। আমার বাবা আগে সিএনজি চালাতো। কিন্তু অনেক দিন ধরে তিনি বেকার। আমরাই খরচ চালাতাম। এ নিয়েও বিভিন্ন সময় মার সাথে কথা কাটাকাটি হতো।

বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম জানান, কী কারণে এই ঘটানাটি ঘটেছে, তার সঠিক কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে প্রায়ই খোরশেদ আলম তার স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে জেনেছি।চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রব জানান, কী কারণে এমন ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহই মনে হচ্ছে।চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে বেবী বেগমের মরদেহ এবং খোরশেদ আলমের মরদেহ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ঘটনাটি তদন্ত শেষে আইনানুনগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!