হত্যার হুমকির অভিযোগে কাউন্সিলর নুর ইসলামের বিরুদ্ধে আইনজীবীর সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর ইসলামের অত্যাচার থেকে রক্ষা এবং তার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একজন আইনজীবী। বুধবার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই ওয়ার্ডের সোনা মিয়ারপুল এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রিপন। এসময় কাউন্সিলর নুর ইসলাম ও তার সহযোগী ধলু’র বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সোনা মিয়ার পুল এলাকায় আমার পিতার জমিতে টিনসেড ঘর এবং রাস্তা সংলগ্ন স্টল রয়েছে। ২০১৭ সালে আমার জমির পাশে আলাউদ্দিন শরীফের কাছ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর ইসলামের সহযোগী মনির হাওলাদার। জমির পূর্বের মালিক আলাউদ্দিন শরীফ তার রেকর্ডিয় ৫শতাংশ জমি থাকলেও সরেজমিনে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির ওপর দোকান ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু জমি বিক্রির সময় আলাউদ্দিন শরীফকে ভুল বুঝিয়ে পাঁচ শতাংশের দলিল নিয়ে পূর্বের ভোগ দখলীয় জমি দখল বুঝে নেন।

তিনি বলেন, ওই জমির দুই পাশে আমার জমি রয়েছে। আমার জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করি। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মনির হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বুলবুল আমার সীমানার মধ্যে তার ক্রয় করা জমি আছে এমন দাবি করে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাউন্সিলর নোটিশ পাঠিয়ে আমার কাজ বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে কাউন্সিলর নুর ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শনে এসে আমাকে মৌখিকভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের অনুমতি দেন। তার অনুমতি পেয়ে পুনরায় প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করি। কিন্তু সে দিনই কাউন্সিলর নুর ইসলামের সহযোগী এক সময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ট্যারা শাহজাহান ও রতন মৃধার সহযোগী ধলু তার বাহিনী নিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি কাউন্সিলর নুর ইসলামেেক অবহিত করা হলে তিনি আমাকে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে নুর ইসলাম দীর্ঘ দিন কালক্ষেপণ করে তার নিয়োজিত সার্ভেয়ার দিয়ে সোনা মিয়ার পুল বাজারে জমির দাগের সীমানা নির্ধারণ করার জন্য ধলু বাহিনী নিয়ে জমি পরিমাপ করেন। সোনামিয়ার পুল বাজারে কোন দাগে সীমানা চিহ্নিত না করে আমার বসত ঘরের সামনে এবং পিছনে সীমানা নির্ধারণ করে নিশান টানিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অবহিত করি। পরে আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি সিটি কর্পোরেশনে সার্ভেয়ার সোনা মিয়ার পুল বাজারে জমির দাগের সীমানা পরিমাপের জন্য যান এবং মূল রাস্তার পাশ দিয়ে একপাশ পরিমাপ করেন। পরবর্র্তীতে করোনা মহামারির কারণে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্য পাশের জমি পরিমাপ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সিদ্ধান্ত না মেনে মেয়র এর কাছে অভিযোগ করায় কাউন্সিলর নুর ইসলাম ও ডাকাত ধলু বাহিনী আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকিসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। এমনকি তাকে খুন করার জন্যও বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাউন্সিলর নুর ইসলামের নির্দেশে ধলু তার লোকজন নিয়ে আমার বাসায় গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। তারা আমার ঘরের দরজা ভাংচুরের চেষ্টা করে। এসময় তারা আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে খুন করবে বলে হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর আমি এয়ারপোর্ট থানায় ধলু বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেই। কিন্তু থানা পুলিশ অদৃশ্য কারণে আমার অভিযোগ এজাহারভুক্ত করেনি। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে আইনজীবী রবিউল ইসলাম রিপন প্রধানমন্ত্রী এবং বরিশাল সিটি মেয়রসহ প্রশাসনের নিকট নুরুল ইসলাম ও ধলুসহ তার বাহিনীর বিচারের দাবি জানান।

Sharing is caring!