স্বেচ্ছায় অব্যাহতির পর পুনরায় নিয়োগ : মেহেন্দিগঞ্জে শিক্ষক নিয়োগে বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক মো: শাহ জামাল। স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন ২০০০ সালে। ২১ বছর পর অবসরে যাওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় এই শিক্ষককে ফের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্কুলটিতে যোগদান করেছেন শিক্ষক শাহ জামাল। ঘটনাটি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কালিকাপুর রমিজ উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে। তবে অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেয়া বা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, কালিকাপুর রমিজ উদ্দিন স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মো: শাহ জামাল ২০০০ সালে স্কুল থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ১৮ মাস পরে ২০০২ সালে চাকরিতে বহাল থাকার জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত সাংসদ মহিউদ্দিন আহম্মেদ এবং ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তাকে জোর জবরদস্তি কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক শাহ জামাল এর পদত্যাগের ৬ মাস পরে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শূন্য পদে নাছরিন বেগমকে নিয়োগ প্রদান করে। যার এমপিও (ইনডেক্স) নং-৫১৩২০৫। কয়েক বছর চাকরির পরে নাছরিন গোয়ালভার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (জর্জ ইনস্টিটিউট) বদলী হয়ে চলে যাওয়ায় পুনরায় কোটা শূন্য হয়। পরে ফের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন শিক্ষক দিলা আফরোজকে নিয়োগ দেয়া হয়। দিলা আফরোজ নিয়োগের পর থেকে দেড়যুগ ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছেন। বর্তমানেও তিনি সেখানে বিদ্যমান।

অপরদিকে ২০০২ সালে মামলা রুজু করে একতরফা ভাবে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ শাহ জামাল এর পক্ষে রায় আসে বলে স্কুল সূত্রে জানা গেছে। পরে আদালতের রায়ের বিপক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ নারাজী দিলে মামলার আদেশ স্থগিত হয়ে যায়। এর পর একইভাবে আরো একবার একতরফা ভাবে মামলার রায় পান শিক্ষক শাহ জামাল। সর্বশেষ মোঃ শাহ জামাল ২১ বছর পরে গত ৮ জুন ফের এই স্কুলে যোগদান করেছেন। অভিযোগ রয়েছে বর্তমান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাব আহম্মেদ ও প্রধান শিক্ষক এবিএম আমজাদ হোসেন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে অবৈধ নিয়োগ প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে ভুয়া কাগজ পত্র তৈরী করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার সাহ’র মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষক শাহ জামাল ২১ বছর পর নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাহাব আহম্মেদ বলেন, শিক্ষক শাহ জামাল এর একটি মানবিক আবেদনের পর ও মামলায় কয়েকবার রায় পাওয়ায় তাকে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখনো নিয়োগ ফাইনাল হয়নি। মন্ত্রণালয় ‘এগ্রি’ করলে তবে নিয়োগ হবে। এব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবিএম আমজাদ হোসেন বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত জুন মাসে।’ তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অবসরে যাওয়ার ৯ মাস আগে তাকে নিয়োগ দেয়া হলেও এখানো কোন অর্থ লেনদেন হয়নি। অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য ও মিথ্যা।