স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বরিশালের গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া আদায় : অসন্তোষ

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

এম. বাপ্পি ॥

বেলা ২ টা। স্থান বরিশাল নগরীর কাকলীর মোড়। রুপাতলী থেকে আগত এক যাত্রীর সাথে সিএনজি চালকের বাগ্বিতণ্ডা চলছে। সিএনজি চালক তাকে বাংলাবাজার থেকে সেখানে এনে ২০ টাকা ভাড়া দাবি করছেন। স্বাভাবিক ভাড়া ১০ টাকার বিষয়ে বলার সাথেসাথেই যাত্রীর উপর চড়াও সিএনজি চালক। সম্মান বাঁচাতে যাত্রীকে বাধ্য হয়ে তাই ১৫ টাকা দিতে হয়েছে। যদিও সিএনজিতে তখনও যাত্রী ছিলেন আরও ৪ জন।

তাদের কাছ থেকে জানা গেলো রুপাতলী থেকে বিবির পুকুর পার পর্যন্ত আসার পুরো পথে সিএনজি চালক ৬ জন যাত্রীই বহন করছেন। এমনকি চালকের ডানপাশে না বসানোর ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের কঠোর নির্দেশনাও উপক্ষে করেছেন সিএনজি চালক। তার ভাষায় এতে কিছু হবে না, ‘মামারা’ (ট্রাফিক পুলিশ) ছাড় দিবেন।

আর এভাবেই স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও বরিশালের গণপরিবহনে নোয়া হচ্ছে বর্ধিত ভাড়া। লকাউনের শেষ থেকেই এই বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি-অটোরিক্সা-প্যাডেলচালিত রিক্সা চালকরা। আর এ ক্ষেত্রে তারা করোনার প্রভাব এবং সরকারি নির্দেশনার দোহাই দিচ্ছেন। তবে যাত্রীরা তাদের এই দোহাই মানতে রাজি নন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাড়তি ভাড়ায় আদায়কে তারা অরাজক হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিকারের দাবী জানিয়েছেন। এদিকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। মাঠ পর্যায় তারা সক্রিয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত নজরদারি এবং ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানাও করছেন। তবুও থেমে নেই গণপরিবহনের নৈরাজ্য।

সরেজমিন পরিদর্শন এবং ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বরিশালের স্থানীয় গণপরিবহনে এক প্রকার নৈরাজ্য বিরাজ করছে। যেমন মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি তেমনি আদায় করা হচ্ছে বর্ধিত ভাড়া। অনেক ক্ষেত্রে সেই ভাড়া ৩ গুণও গিয়ে ঠেকছে। আর বাড়তি ভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, বাড়তি ভাড়া নিয়ে গণপরিবহন চালকরা যাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ এবং দুবর্ব্যহার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী লঞ্ছিতের মত ঘটনাও ঘটছে।

এদিকে বরিশাল থেকে দূরপাল্লার পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা থেকে আগত একটি পরিবহনের যাত্রী শরিফ জানান, মাওয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত তার কাছ থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ২ সিট বাবদ ভাড়া নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা। যেখানে ১ সিটের স্বাভাবিক ভাড়া ছিল ২৫০ টাকার আশেপাশে। তাছাড়া এক সিট খালী রেখে বরিশাল আসার কথা জানালেও দুটি সিটই পূরণ করা হয়েছে বাড়তি ভাড়া নিয়ে। সেক্ষেত্রে পরিবহনে আদায় করা হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন একাধিক যাত্রী।

এদিকে গত রোববার ডিসি (ট্রাফিক) কার্যালয়ে থ্রি-হুইলার যান বিষয়ক ত্রি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার করোনার অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে কোন ভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রীবহন না করার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত চালক দিয়ে যান চালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ওই বৈঠকে বরিশাল নগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যানবাহনের ভাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়ার অনিয়ম থেকে সহসাই উত্তরণ না ঘটার শংকা প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল ট্রাফিক বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার আজকের বার্তাকে জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে সরকার ইতিমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় গণপরিবহগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। আর এ ক্ষেত্রে ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে ৬০ শতাংশ হারে। তবে যদি কোন যান চালক এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!