স্বাস্থ্যখাতে ৮ দফা দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধকালে বাসদের হরতালের হুমকি

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেশী করে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পিসিআর ল্যাব বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্যখাতে আট দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রিক দল- বাসদ।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডস্থ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এসময় সদর রোডের দুই প্রান্ত থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে শহরের গির্জামহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, চক বাজার ও বগুড়া রোড সড়কে যানবাহনের জট সৃষ্টি হয়।

এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তবে জনভোগান্তির জন্য নয়, করোনার মহামারি দুর্যোগের সময়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েই সড়ক অবরোধের মত কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসদের বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

বিক্ষোভকালে তিনি বলেন, ‘প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ নেই। চিকিৎসার অভাবে বরিশালবাসীর বাসায় বসে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে রাস্তায় বসে মরা অনেক ভাল।

তিনি বলেন, করোনা চিকিৎসায় বরিশাল বিভাগ সব থেকে পিছিয়ে আছে। যেখানে অন্যান্য বিভাগে ২ থেকে চারটি পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার ল্যাব রয়েছে সেখানে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার কোটি মানুষের জন্য রয়েছে একটি মাত্র ল্যাব। যেখানে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে এক মাস আগে সিরিয়াল দিতে হচ্ছে। এর মধ্যে মানুষ হয় এমনিতেই সুস্থ হবে নতুবা মারা যাবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, দাবি জানিয়েছি কিন্তু আমাদের দাবির প্রতি তারা কর্ণপাত করেনি। তাই আজ (গতকাল) সড়ক অবরোধের মত আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি। এরপরও যদি করোনা চিকিৎসায় ব্যবস্থার উন্নতি না করা হয় তাহলে হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

এদিকে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করা বাসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে ব্যর্থ হলে গদি ছেড়ে দিন। বরিশাল নগরসহ বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে চলছে চরম অরাজক পরিস্থিতি।

তিনি বলেন, মানুষের অসুস্থতা আর মৃত্যু নিয়ে চলছে তামাশা। নমুনা পরীক্ষা করতে গেলে ১৫/২০ দিন পর নমুনা সংগ্রহের সময় দেয়া হচ্ছে। এটা রোগীদের সাথে তামাশার নামান্তর এবং জেনে শুনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অযৌক্তিক কোন দাবি করিনাই। আমরা যে আট দফা দাবি করেছি তা সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। তাই আট দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

দাবিগুলো হলোঃ করোনা টেস্টে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানী বন্ধ করা, বরিশালে পিসিআর ল্যাব বৃদ্ধি ও প্রতিদিন কমপক্ষে এক হাজার পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রতিজেলায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা। করোনা রোগীদের জন্য এক হাজার শয্যা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ এবং ১০০ আইসিইউ বেড নিশ্চিত করা।
করোনা রোগীদের পরিবহনের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা। আক্রান্ত রোগীদের সু-চিকিৎসা, নিয়মিত কাউন্সিলিং এবং লকডাউনকৃত বাসায় খাবার ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া।

চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ জরুরী সেবায় নিয়োজিত সকলকে ঝুঁকি ভাতা, উন্নত নিরাপত্তা পোশাক নিশ্চিত করা। করোনা কালীন সময়ে এনজিও কিস্তি, বাড়ি ভাড়া মওকুফ, সরকারি বরাদ্দ দেওয়া। ভূতুরে বিদ্যুত বিল প্রত্যাহার, করোনার এই সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা, পানি, বিদ্যুৎ বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা এবং সবশেষ দাবি শ্রমজীবী মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা, সকল প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা।

সড়ক অবরোধকালে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জাসদ বরিশাল মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক মুন্না, সোনার গাঁ টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক নেতা নুরুল হক, এ্যাংকর সিমেন্টের শ্রমিক নেতা শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে বাসদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই নগরীর সদর রোডস্থ অশ্বিনী কুমার হলে অবস্থান নেন মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা। পরে কর্মসূচির শেষ দিকে পুলিশ তাদের সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানায়। পরে কর্মসূচি শেষে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফকিরবাড়ি রোডে বাসদ কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

Sharing is caring!