স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে বরিশালে স্ত্রী’র সংবাদ সম্মেলন


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২১

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

জমিজমা বিরোধে বরিশালের উজিরপুরে অধ্যাপক নিরু রায়হান হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের স্ত্রী সৈয়দা শাহিন আক্তার। গতকাল রোববার বেলা ১২টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এসময় দায়েরকৃত মামলার আসামীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান। স্ত্রী সৈয়দা শাহিন আক্তার জানান, তিনি চট্রগামের একটি এনজিওতে চাকুরীর সুবাদে নিরু রায়হানের (নিরঞ্জন শীল নিরু) সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়। নিরু হিন্দু হওয়ায় ২০০১ সালে তিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে সৈয়দা শাহিন আক্তারকে বিয়ে করেন। বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রফেসর নিরু বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গজেন্দ্র গামের মৃত যোগেশ শীলে পুত্র। তিনি আরো বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি ভাগ করে না দেওয়ায় তিন ভাইয়ের সাথে নিরুর দ্বন্দ্ব ছিলো। এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৬ বার নিরু তার নিজ বাড়ী উজিরপুরে আসা যাওয়া করে। এসময় ভাইদের সাথে ঝগড়াসহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ২০১৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে ফের বাড়িতে গিয়ে তার পাওনা সম্পত্তি দাবি করে শালিস বৈঠকে বসার হুমকি দেয়। এরপর প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি তার ভাইয়েরা কিস্তিতে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। চুক্তি অনুযায়ী জমির মূল্যের প্রথম কিস্তির ২২ লক্ষ আনতে ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল নিরু পৈত্রিক ভিটায় বসবাসকারী ভাইদের কাছে যায়। এর কয়েক দিন পর ২১ এপ্রিল  বিকেল পৌনে ৪টায় নিহত নিরুর ছোট ভাই মনোরঞ্জন শীল ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানান। স্ত্রী শাহিন আক্তার তার শ^শুর বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনার ৮ মাস পরে স্বামীর সম্পত্তি বুঝে নিতে স্ত্রী শাহিন আক্তার শ্বশুর বাড়ি গেলে তাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করেন নিহতের ভাইয়েরা। এর পরিপেক্ষিতে উজিরপুর থানায় ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। পরে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৮ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আসামীরা হলেন, অমল চন্দ্র শীল, বিমল চন্দ্র শীল, মনোরঞ্জন শীল, সুশান্ত শীল শান্ত, কনা রানী শীল, মিথুন জয় দীপ, অর্পিতা রানী টুম্পা, অঞ্জন শীল। এই মামলায় বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্ত চলছে। লাশের ডিএনএ ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ৮ মার্চ লাশ উত্তোলন করা হবে। এদিকে তার দেবর মনোরঞ্জন শীল চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিয়ে দেশ ত্যাগ করার পরিকল্পনা করছে। তাই দোষীদের সুষ্ঠু বিচার ও সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।