স্বরূপকাঠিতে সোয়া চার কোটি টাকায় ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্রিজ নির্মাণ!

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

রাহাদ সুমন,বানারীপাড়া প্রতিনিধি ॥ পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিরুদ্ধে উপজেলার সেহাঙ্গল বাজারের দক্ষিণ পাশের খালের ওপর ৩৩ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করে প্রায় সোয়া চার কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মাত্র দেড় থেকে ২০০ মিটারের ব্যবধানে একই খালের ওপর সড়ক বিভাগের একটি বেইলি ব্রিজ চালু রয়েছে। ইউনিয়ন সড়কের সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার অজুহাতে অপ্রয়োজনীয় আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করে সরকারের ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার অপচয় করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের ত্রি-মোহনায় নির্মাণাধীন ওই ব্রিজের দক্ষিণ পাড়ে মাত্র ৩/৪শ’ ফুট সরু মাটির রাস্তার পাশে কোনো বসতবাড়ি নেই। মানুষের যাতায়াতও নেই ওই রাস্তায়। ছোট্ট ওই বাজারের ভেতরের সড়ক দিয়ে মানুষজন বেইলি ব্রিজ পার হয়ে যাতায়াত করেন।

টি এন-এ এস আই (জেবি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্ততি হিসেবে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করার পর স্থানীয়রা ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে জানতে পারেন। এ ব্যাপারে তাদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ব্রিজটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৯ টাকা।
এদিকে ওই বাজারের উত্তর পাশে রাজবাড়ী খেয়াঘাটে যাতায়াতের জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের খালের উপর একটি জরাজীর্ণ লোহার ব্রিজ রয়েছে, যা মেরামত বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি। খেয়াঘাটে যাতায়াতের অতি প্রয়োজনীয় ব্রিজটি নির্মাণ না করে, গুরুত্বহীন জায়গায় ৪ কোটি টাকার ব্রিজ তৈরি করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, স্বরূপকাঠি-পিরোজপুর সড়কের পাশে সেহাঙ্গল একটি ছোট বাজার। ওই বাজারের খালের উপর সড়ক বিভাগের একটি বেইলি ব্রিজ দিয়ে গত ১৫ বছর যাবত যানবাহন চলাচল করছে। সড়ক বিভাগ ওই জায়গায় পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন তৈরিসহ টেন্ডার আহ্বানের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে। সড়ক বিভাগের রাস্তা চালু হওয়ার আগে বাজারের পশ্চিম পাশের মাটির রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতো। সেভাবেই রাস্তাটি ইউনিয়ন সড়ক হিসেবে এলজিইডির আইডিভুক্ত হয়। ওই স্থানে ব্রিজের গুরুত্ব বিবেচনা না করেই এলজিইডি টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. হুমায়উন বেপারী বলেন, বাজারের ৫/৭ জন দোকানি ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির ২/৩ জন মানুষ দক্ষিণ পাড়ের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া ছাড়া ওই পুলের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। জায়গায়টিতে একটি লোহার পুল ছিল, যা মেরামত করলেই যথেষ্ট ছিল।

এ বিষয়ে এলজিইডির স্বরূপকাঠির উপজেলা প্রকৌশলী মীর আলী শাকির বলেন, সেহাঙ্গল বাজারের দক্ষিণ পাশে খালের উপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব আমার আগের অফিসাররা দিয়েছেন। তিনটি খালের ভাঙনকবলিত মোহনা এবং দক্ষিণ পাড়ে মসজিদ থাকায় ব্রিজের অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়ক করা জটিল বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার রায় বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে ঠিকাদার পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।