সুতার বদলে চীন থেকে এলো কনটেইনার ভর্তি বালু

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০

চীন থেকে আমদানি করা ৪৯ হাজার ৬৯৭ ডলারের সুতার বদলে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ৪০ ফুট লম্বা কনটেইনার ভর্তি বালুর বস্তা। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে কনটেইনার পরীক্ষায় এসব বালুর বস্তা পাওয়া গেছে।

বিষয়টি অর্থপাচার, চোরাচালান নাকি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের ভুল বা প্রতারণা তা খতিয়ে দেখছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এসব বালুর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার নুর এ হাসনা সানজিদা অনুসুয়া জাগো নিউজকে জানান, সোহারা ফ্যাশনের নামে একটি প্রতিষ্ঠান পলিয়েস্টার সূতা ঘোষণা দিয়ে এ কনটেইনার আমদানি করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটি কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম আজ (সোমবার) পরীক্ষা করে। পরে সুতার পরিবর্তে বস্তা ভর্তি বালি পাওয়া যায়।

কাস্টমস হাউস সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে বিভিন্ন সময় মূল্যমান পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে ইট, পাথর, বালু বা মাটিভর্তি কনটেইনার আসার ঘটনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খালি কনটেইনারও আসছে। এছাড়া বেশি কিংবা কম মূল্য দেখিয়ে (আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং) আমদানি-রফতানির ঘটনাও ঘটছে। অর্থপাচারের জন্য এসব জালিয়াতি হয় বলে সন্দেহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যাংক, বিদেশি রফতানিকারকসহ বিভিন্ন পক্ষের যোগসাজশে ভুয়া এলসি খুলে দেশ থেকে পুঁজি পাচারের ঘটনা বেশ আগে থেকেই ঘটছে। এছাড়া ওভার ইনভয়েসিং (আমদানিতে বেশি মূল্য) কিংবা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের (রফতানিতে কম মূল্য) মাধ্যমে অর্থপাচার হচ্ছে। সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। এখন আর শুধু সেকেন্ড হোম তৈরির জন্য নয়, তারা বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের জন্য পুঁজি পাচার করছেন।’

Sharing is caring!