সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, ক্লিনিক মালিককে গণধোলাই

প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রিতু খাতুন (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার শিল্পী ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। রিতু মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী।এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ক্লিনিকের মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।

নিহত রিতুর চাচাত ভাই রাব্বি জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রিতু খাতুনের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে পরিবারের লোকজন তাকে ভেড়ামারার শিল্পী ক্লিনিকে ভর্তি করেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাৎক্ষণিক সিজার করতে হবে বলে জানান ক্লিনিক মালিক আশরাফ এবং শিল্পী।

ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. টিএ কামালীর তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে রিতু ছেলে সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু অপারেশনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তা বন্ধ করতে না পারায় ওই রাতেই রিতু মারা যান।রাব্বি আরও জানান, মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক মালিক ও চিকিৎসক রিতুকে কুষ্টিয়ায় রেফার করার নাটক সাজান এবং তড়িঘড়ি করে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

এ ঘটনায় শনিবার ভোরে লাশ নিয়ে শিল্পী ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেন রিতুর স্বজনরা। এ সময় ক্ষিপ্ত স্বজনরা ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে গণধোলাই দেন।খবর পেয়ে ভেড়ামারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ক্লিনিক মালিক আশরাফুল ও শিল্পী খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক টিএ কামালী পলাতক রয়েছেন।

ভেড়ামারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ক্লিনিক মালিককে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!