সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা নিত না থানা, সাহেদ দিলে নিত

প্রকাশিত: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের প্রতিষ্ঠানে ৫৮ লাখ টাকার বালু দেন ইমতিয়াজ হাবীব। গত বছরেরর আগস্ট মাসে বালু দিলেও টাকা না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন সাহেদ। টাকা দেওয়ার কথা বলে গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্তরায় রিজেন্টের অফিসে ইমতিয়াজকে ডেকে নেন সাহেদ। সেদিন ইমতিয়াজকে মারধর করেন সাহেদ। গুলি করে হত্যার হুমকিও দেন। মারধরের শিকার হয়ে ইমতিয়াজ উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উঁচু পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন ইমতিয়াজ। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনো ফল পাননি। মামলা নেয়নি পুলিশ।

ভুক্তভোগী ইমতিয়াজ লেন, ‘সাহেদের প্রতিষ্ঠানে বালু দিয়ে আমি বড় বিপদে পড়ে যাই। সাহেদ নিজের অফিসে ডেকে আমাকে মারধর করে। সাহেদের সঙ্গে থাকা অস্ত্রধারীরা আমাকে মারধর করেন। সাহেদ নিজে আমাকে লাথি মারেন। মারধরের শিকার হওয়ার পরও আমি থানায় গিয়েছি। থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু থানা আমার মামলা নেইনি।’

অবশ্য সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ায় গত ১৯ জুলাই ইমতিয়াজ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, সাহেদের বিরুদ্ধে আগে থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি।

২০০৯ সাল পর্যন্ত সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা–পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার ৮টি মামলা হয়েছিল। ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি স্বারক জাল করে বুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার অভিযোগে ওই মন্ত্রণালয় উত্তরা–পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন। তবে সাধারণ ভুক্তভোগী কোনো ওই থানায় গিয়ে সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেননি। যারা মামলা করতে গেছেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই কয়দিনে উত্তরা–পশ্চিম থানায় ৭টি মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
থানার রেকর্ড বলছে, সাহেদ সেখানে তার কর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন। এই মামলার কারণে পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে দিনের পর দিন।

Sharing is caring!