সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে মঠবাড়িয়ার মুন্নিকে ফিরে পেল পরিবার

প্রকাশিত: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা ॥

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী বাজারে সড়কের ওপর গত বৃহস্পতিবার রাতে সন্তান প্রসব করা মানসিক ভারসাম্যহীন মুন্নি আক্তার (৩০) কে খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার। স্থানীয় এক সাংবাদকর্মী ও কতিপয় যুবক একাধিক আইডি দিয়ে মুন্নি ও তার সন্তানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেই ভিডিও দেখে মুন্নিকে খুঁজে পায় তার পরিবার। রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মুন্নী পরিবারের সদস্যদের দেখে কেঁদে ফেলেন।

মুন্নি বরিশালের মুলাদী উপজেলার উত্তর কাজীরচর গ্রামের রতন বেপারীর মেয়ে। স্বামী মাইন উদ্দিন তালুকদার ঢাকায় থাকেন। মুন্নি বাবার বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুন্নির আট ও তিন বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর গত ৩০ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মুন্নিকে ফিরে পাওয়ায় পরিবারের সবাই আনন্দিত।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মিরুখালী বাজারে মুন্নিকে প্রথম দেখা যায়। দুই দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে মুন্নি মিরুখালী বাজারের সড়কের পাশে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই উদ্ধার করে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের ফেসবুকে ভিডিও ও অনলাইন পোর্টালের সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মুন্নির পরিবারের লোকদের নজরে আসে। এদিকে শনিবার উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নবজাতককে বরিশালের আগৈলঝাড়া ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়।

মঠবাড়িয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফেরদৌস ইসলাম বলেন, মুন্নি ভারসাম্যহীন। কিন্তু স্বজনদের দেখে চিনতে পারেন। তার ভাবিকে দেখিয়ে কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাবি। এক পর্যায়ে মুন্নি ভাবির গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করেন। মুন্নির পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে করে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এসেছেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আ.জ.ম মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, মুন্নির স্বামী মাইনউদ্দিন তালুকদারকে ঢাকা থেকে আসতে বলা হয়েছে। এরপর মুন্নিকে স্বামীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্বামী মাইন উদ্দিনের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার খোন্তাখালী গ্রামে।

Sharing is caring!