সাত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চায় বরিশালের প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ৫ ডিসেম্বর সমন্বিত ৭ ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি (বিএসসি)। পরীক্ষার আসন বিন্যাসও প্রকাশ করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তবে বর্তমান মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রায় দেড় লাখ পরীক্ষার্থীর এই পরীক্ষা স্থগিত করার দাবি তুলেছেন বরিশালের প্রার্থীরা। দেশে করোনার সংক্রমণ কমে আসলে পরীক্ষা নেয়ার দাবি তাদের।সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও এমন দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে চাকরি প্রার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষা নেয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে মত দেয়া প্রার্থীরা বলছেন, দেশে শীত শুরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই করোনায় মৃত্যুু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় এত বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর বরিশাল থেকে ঢাকায় যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকির।প্রশ্ন উঠেছে কেউ যদি পরীক্ষা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন তবে তার দায় ভার কে নেবে। এছাড়া অনেকেই ঢাকার মেস ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। বর্তমানে তাদের রাজধানীতে গিয়ে থেকে পরীক্ষা দেয়ার মতো অবস্থা নেই। ৫ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেয়া হলে অনেকেই এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আসলাম হোসেন জানান, শীতের সঙ্গে সঙ্গে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় যাবে এবং ফিরে আসবে।এই সময়ের মধ্যে যেকোনো ভাবে যেকোনো পরীক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হতে পারে। তাই আগামী ৫ তারিখে পরীক্ষা গ্রহণের অমানবিক সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বলেন,‘ আমার বাড়ি ঝালকাঠিতে। ঢাকায় পরীক্ষা দিতে যেতে হলে আমাকে আগেরদিন ঝালকাঠি থেকে রওনা করতে হবে।এই পরীক্ষার ফরম কেনার সময় চিন্তা করেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এক বান্ধবীর কাছে থাকবো পরীক্ষার সময়। কিন্তু দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সে বাড়িতে রয়েছে। এমন অবস্থায় বোধহয় আমার পক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেয়া সম্ভব হবে না’।

এরমধ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বরের পরীক্ষাটি স্থগিতের দাবি নিয়ে ফেসবুকে ‘সমন্বিত ৭ ব্যাংকের পরীক্ষা স্থগিত চাই’ – নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। গ্রুপটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যে হারে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে সারাদেশ থেকে ঢাকায় নেয়া অবিবেচক,অযৌক্তিক এবং অমানবিক সিদ্ধান্ত। আমরা এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি এবং বিএসসির প্রতি আহবান জানাচ্ছি তারা যেন পরীক্ষাটি স্থগিত করে। অন্যথায় গ্রুপটির সদস্যদের নিয়ে আন্দোলনে যাবার হুঁশিয়ারী দেন তিনি।

আর ৫ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেবার সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী বলে আখ্যা দিয়েছেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন,‘করোনার প্রকোপ থেকে দেশের যুবাদের রক্ষা করতে সকল উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। সেখানে শিক্ষিত যুব সমাজের এত সংখ্যক অংশকে ঢাকায় টেনে নেয়া দূরদর্শী কোন সিদ্ধান্ত নয়।সংক্রমণের হার কমে আসা পর্যন্ত এ ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা পেছানো উচিত বলে আমি মনে করি’।

তবে চাকরি প্রার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বাড়িতে বসে থাকলেও যে কারো করোনা হতে পারে। কার করোনা হবে কিংবা কার হবে না সেটা এখন আর নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।তাই পরীক্ষা নিয়ে নেয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ পরীক্ষাটি স্থগিত হলে তা কয়েকমাস পিছিয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের একজন জেষ্ঠ কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় নেয়া কিছুটা দৃষ্টিকটু। তবে বিচ্ছিন্নভাবে বিএসসির সমালোচনা না করে যারা পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে তাদের প্রতিনিধিদের সরাসরি বিএসসি’র প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। যৌক্তিক অবস্থান পরিষ্কার করলে অবশ্যই পরীক্ষা স্থগিত হবে বলে ধারণা তাঁর।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ নভেম্বর সাত ব্যাংকের ৭৭১টি সিনিয়র অফিসার পদের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে বিএসসি। সরকারের কাছে পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি চাইলেও এখনো অনুমতি মেলেনি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে । এরই মধ্যে গত ২৩ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার কেন্দ্র ও আসন বিন্যাস প্রকাশ করে তারা। এর পরই পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছেন প্রার্থীরা।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকার ৬৭টি কেন্দ্রে এক লাখ ৪০ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবেন বলে জানানো হয়। ৭৭১টি পদে নিয়োগ পেতে ৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার পরীক্ষা দেবেন চাকরি প্রত্যাশীরা। এক ঘণ্টার পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে।

এই সাত ব্যাংক হলো সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশ এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক।