সাংবাদিকরা উন্নয়নের প্রথম কাতারের সৈনিক-পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম- এমপি বলেছেন, ‘‘সাংবাদিকরা নবেল পেশায় রয়েছেন। বরিশালের উন্নয়নের প্রথম কাতারের সৈনিক হলেন আপনারা। আপনারা যদি সত্য ও বস্তুনিষ্ট রিপোর্ট পরিবেশ করেন তাহলেই বরিশালের উন্নয়ন হবে। সাংবাদিকতা করতে এসে ভয় পেলে চলবে না, সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তা না পারলে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করুন। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিআইপি কলোনীর রেস্টহাউজে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কথা কম বললেও কাজকে বেশি ভালোবাসি। আমি প্রতিদিন সকালে পেপার দেখে এক ঘন্টা সময় ব্যয় করি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যতো নিউজ হয় তা কাটিং করে আমাকে দেয়া হয়, যা পরে আমি নোট করি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য করনীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেই।

তিনি বলেন, ‘আমি দায়িথ্ব নেয়ার পর বাঘা বাঘা ১১ জন ঠিকাদারকে কাজ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ তাদের এতো কাজ দেয়া হয়েছে যে তারা তা শেষ করতে পারছে না। আমরা তাদের বলেছি আগের কাজ শেষ করুন তার পর নতুন টেন্ডার দেবো। পুরাতন কাজ শেষ না হলে নতুন কাজ দেয়া হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এতে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। বাংলাদেশের ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ এর ৮০ শতাংশ কাজ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করানো হচ্ছে। এর আওতায় ৬৪ জেলার খাল খননের একটি প্রকল্প রয়েছে। গোটা বাংলাদেশে ৫১১টি ছোট নদী-খাল খনন করা হচ্ছে। এছাড়া ৮০টি ছোট জলাশয়ও বরয়েছে। এগুলোর কাজ ৬০ শতাংশর মতো হয়ে গেছে’।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম আরও বলেন, ‘‘বরিশালের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি ভিন্ন প্রকল্প নিতে হবে। আমরা চারটি খালকে ড্রেজিং করাবো এবং গেট করে বোটপাস দেয়া হবে। খাল খনন হয়ে গেলে বর্ষার পানি তা দিয়ে নেমে যাবে। ফলে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বরিশালের কথা উঠলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগ্রহভরে শুনতে চান। তিনি অন্যদের থামিয়ে দিয়ে আমার মুখ থেকে বরিশালের কথা শুনতে চান। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, ‘সবকিছুর ভেতরে প্রধান কথা হচ্ছে শান্তি। যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকবে সেখানে উন্নয়ন এমনিতেই হবে। আর যেখানে নাই সেখানে উন্নয়ন হবে না।’

তিনি বলেন, আমার ইচ্ছে হলো বরিশালকে সুন্দর শহরে পরিণতো করা। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে এগুচ্ছে না। শওকত হোসেন হিরণ যখন মেয়র ছিলেন তখন কিন্তু বরিশাল শহরের উন্নয়ন হয়েছে। তার আগে ও পরে কোন উন্নয়ন হয়নি। এখন আমার ইচ্ছে বরিশালকে সুন্দর করার। এজন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী।

মতবিনিময়কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম চুন্নু, সৈয়দ দুলাল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুরাদ আহমেদ, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম. মোফাজ্জেল, কোষাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, পাঠাগার সম্পাদক খান রুবেল, ক্রীড়া সম্পাদক মোহন দেওয়ান, নির্বাহী সদস্য সাগর বৈদ্য, সদস্য এম. জহির, জাকির হোসেন, গোপাল সরকার, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান মধু, জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জোবায়ের আবদুল্লাহ জিন্নাহ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভার পূর্বে বরিশাল প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে দেশের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী’র সহযোগিতা এবং পাশে থাকার অনুরোধ জানান। এসময় প্রতিমন্ত্রীও বরিশাল প্রেসক্লাবের সকল ভালোকাজে পাশে থেকে সহযোগিতার আশ^াস দেন।