সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্তে দেশে ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে- বিভাগীয় কমিশনার

প্রকাশিত: ১০:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রজন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছেন বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বুধবার বিকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকার ও রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শফিকুল ইসলাম- বিপিএম (বার), পিপিএম এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে বিভাগীয় কমিশনার অমিতাভ সরকার বলেছেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সরকারি নির্দেশনার কারণে দেশে ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক এবং নিজেদের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা জেলে, সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করছি। এর সুফল হিসেবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করছে না।

তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেরা বেকার হয়ে পড়বেন। তাই সরকার জেলেদের কথা চিন্তা করে বিভাগে ২ লাখ ৮২ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে জেলেদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম- বিপিএম (বার), পিপিএম বলেছেন, ‘ইলিশ আহরণে সরকারের নিষেধাজ্ঞা সুফল বয়ে আনছে। সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে বিগত সময়ের থেকে বর্তমানে ইলিশের আকার ও উৎপাদন দুুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দেশের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধি ও নিজেদের চাহিদা মেটানোর জন্য হলেও নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ নিধন বন্ধ রাখতে হবে। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

জেলে শূন্য নদী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ডিআইজি বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরার ঘটনা ঘটছে না এমন নয়। তবে মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বেশীরভাগ জেলে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকছেন। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারে যাচ্ছেন তাদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অপরদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘গত বছর বরিশাল বিভাগ থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। এ বছর আমরা ৪ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ উৎপাদনের আশা করছি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সরকারি নিয়ম এবং সিদ্ধান্ত মেনে নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে দেশের নদ-নদীতে ইলিশের সংকট থাকবে না।

বিশেষ এই অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাইদ, মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস, বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি’র স্টাফ অফিসার সহকারী পুলিশ সুপার সালমান হাসান, বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কোস্টগার্ডের চিফ পেটি অফিসার এম. রুহুল আমিন ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

 

Sharing is caring!