সমাধানের পথে শেবাচিমের সংকট, তদন্ত প্রতিবেদন আগামীকাল


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২০

শফিক মুন্সি ::

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে টানা তিনদিন ধরে চলমান বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) অচলায়তন ও সংকট সমাধানে কিছুটা আলো দেখা গেছে। সোমবার রাতে আন্দোলনরত ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বর্তমান অচলাবস্থার কারু ও সমাধান বের করতে গঠিত তদন্ত কমিটি আগামীকাল মঙ্গলবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ডাঃ তারিকুল ইসলাম সোমবার রাতে বলেন,‘ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন চলমান আছে। তবে চিকিৎসা সেবা যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে নজর রেখে স্বল্পমাত্রায় কর্মবিরতি করছি আমরা’। তবে সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত যেন সমাধান মূলক জায়গায় পৌঁছানো যায় সেই চেষ্টা তারা করছেন বলেও জানান ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এই নেতা।

অন্যদিকে শেবাচিমে দ্রুত স্থিতিশীলতা আনার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করার কথা জানান হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন।  সোমবার রাত আটটার দিকে তিনি বলেন,‘হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। দফায় দফায় তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পুরনো রূপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আমি আশাবাদী’।

তিনি আরো বলেন,‘চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যকার দূরত্ব ঘোচাতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মঙ্গলবার (আজ) উক্ত কমিটি বর্তমান সংকট সমাধানে তাদের সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জমা দেবে’।

গত শনিবার শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করে। এর আগে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্যাডে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্র জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্রে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সজল পান্ডে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. তরিকুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্রে উল্লেখ করা হয় শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানের অনৈতিক ও হীন কর্মকা-ের জন্য ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক পরিচালকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হলো।

অপরদিকে স্মারকলিপি ও কর্মবিরতিপত্রে সেদিন আরও বলা হয়, দুপুর ২টার মধ্যে তাদের ঘোষিত তিন দফা দাবির সমাধান না হলে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

দাবিগুলো হলো: ডা. মাসুদ খান কর্তৃক দায়ের করা প্রহসনমূলক মিথ্যা মামলা ও বিভিন্ন মাধ্যম কর্তৃক হয়রানি অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা, ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচার করা অসত্যের জন্য মানহানির বিচার করা।

প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর রেজিস্ট্রার ডা. মো. মাসুদ খান, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের সভাপতি সজল পান্ডে ও সাধারু সম্পাদক ডা. তরিকুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ আরও আট থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনে পরিচালকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

এর পরদিন ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের সামনে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন ডা. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে। পরে ডা. মাসুদ খান নগরীর কোতোয়ালি থানায় ওই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এ ঘটনায় সৃষ্ট সংকট নিরসনে হাসপাতালের পরিচালক একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেন। যে কমিটি আজ তাদের সুপারিশ সহ প্রতিবেদন জমা দেবে।

মামলা হওয়ার খবর পেয়ে ২৯ অক্টোবর রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কর্মবিরতির ডাক দেন। পরে সেরাতে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতাল পরিচালক ও উপ-পরিচালকের হস্তক্ষেপে আড়াই ঘণ্টার আলোচনা শেষে রাত আড়াইটায় কর্মবিরতি থেকে সরে আসেন ইন্টার্নরা। সেসময় ইন্টার্নরা কিছু আল্টিমেটামও বেধে দেন কর্তৃপক্ষকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘোষণা দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। যার প্রেক্ষিতে দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ এই সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রটির সেবা কার্যক্রম একদম ভেঙে পড়েছে।