সভায় অনুপস্থিত বরিশালের শিল্প মালিকরা : প্রশাসন-সুশীল সমাজের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘বরিশালের শিল্প দূষণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও জনদুর্ভোগ নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে অনুষ্ঠিত এ সভায় আমন্ত্রিত কোন শিল্প মালিক অংশগ্রহণ করেননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

 

বরিশাল জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মানিক- বীর প্রতীক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর জেলা সভাপতি শাহ সাজেদা, বেলার সমন্বয়কারী লিংকন গায়েন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সংগঠক রফিকুল আলম, উন্নয়ন সংগঠক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু, আনোয়ার জাহিদ, শুভংকার চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

সভায় আলোচকরা বলেন, ‘শহরের মধ্যে ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও স্বর্ণ শিল্পের বর্জ্যে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এসব বর্জ্য কোন পরিশোধন ছাড়াই নদীর পানিতে গিয়ে মিশছে।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা বলেন, ‘গত ৩২ বছরে ধরে আমরা শহরের মধ্যে থেকে ওষুধ শিল্প স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছি। এ নিয়ে অনেকবার আন্দোলনও হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে শহরের মধ্যে থেকে ওষুধ, স্বর্ণ ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প স্থানান্তর হচ্ছে না।

 

তারা আরও বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোথাও কোন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। পরিবেশ অধিদপ্তর শহরের মধ্যে শিল্প স্থাপনের ছাড়পত্র দিয়ে জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন ও কাঠ পোড়ানো বন্ধ এবং মেডিকেল বর্জ্য ও শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য গুরুত্বারোপ করেন আলোচকবৃন্দ।

এসময় সভায় উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার প্রশাসনকে সাথে নিয়ে শিল্প দূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ^াস দেন।