সব সময় চিন্তা ছিল চার মারব, ছক্কা মারার চিন্তা করিনি : তামিম

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০

তামিম ইকবাল ৫৬০ মিনিট ক্রিজে থেকে ৪০৭ বল খেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি ছুঁলেন। তাতে একটি ছক্কাও নেই! ভাবা যায়? চোখে দেখেও যে বিশ্বাস করা কঠিন। তামিমকে চেনেন, জানেন এবং তার খেলা দেখেছেন- এমন কারোই যে এ কথা বিশ্বাস হবে না।

তবে বাস্তবতা হলো, এমনটাই হয়েছে মাঠে। তামিম করে দেখিয়েছেন। তিনশ করার পথে একটি ছক্কা না হাঁকানোই ছিল তামিম ইকবালের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
অথচ ৩০০ রান পূর্ণ করার পরই খোলস পাল্টে ফেলা। ৩০০ রান পূর্ণ করার পর যে আরও ৩৪ রান করেছেন, তাতে ছিল তিন তিনটি ছক্কার মার। শুধু তাই নয়, ৩০০ করার পথে বাউন্ডারি থেকে (৪০ গুণ ৪) ১৬০ রান তোলা তামিম ১৪ টি ডাবল নিয়েছেন। আর একটি ছিল ৩ রানের শট। এর বাইরে ৩০০ করতে ১০৯ টি সিঙ্গেলস নিয়েছেন।

প্রায় পৌনে ১০ ঘন্টা (৫৮৫ মিনিট) ক্রিজে কাটিয়েছেন। একবারের জন্য ভুল শট খেলেননি। শটের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে কিংবা প্রতিপক্ষ বোলারের বলে উইকেটের পেছনে, সামনে বা অন্য কোথাও ক্যাচ তুলে বেঁচে যাবার ঘটনাও নেই! এটাও তামিমের সাথে খুব একটা যায় না। তামিমের অনেক বড় ইনিংস মানেই অন্তত এক-দুইবার তেড়ে ফুড়ে মারতে গিয়ে আকাশে তুলে দেয়া। লং অফ, লং অন, ডিপ মিড উইকেট ও তার আশপাশে ক্যাচ তুলে দেয়া। কিন্তু আজ (রোববার) ওসব কিছুই হয়নি।

অযথা তাড়াহুড়োও করেননি। একদম সাজানো গোছানো ব্যাটিং। যে বল যেখান দিয়ে খেলতে চেয়েছেন, সেখান দিয়েই পেরেছেন। তবে অন্য সময়ের মত তেড়েফুড়ে মেরে আর হঠাৎ হঠাৎ উইকেটে ছেড়ে বেরিয়ে লং অফ, লং অন, ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বাতাসে ভাসিয়ে নয়; যতটা সম্ভব ব্যাকরণ মেনে, গাণিতিক শট খেলে।

হঠাৎ নিজের খোলস পাল্টে এমন এক সুন্দর ছিমছাম ইনিংস-পেছনের কাহিনী কি? দিন শেষে নিজের ইনিংসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। উইকেটে বল সেভাবে ঘুরছিল না, বাড়তি কিছুই হচ্ছিল না। আমার কাছে মনে হয়েছে নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করতে হবে। তিনশ রান করার পর আমি সুযোগ নিয়েছি। এর আগে আমার মনে হয় না আমার বিশেষ কিছু করার ছিল। আমি ব্যাটিং করে গেছি। ক্রিকেটিং শটস খেলে গিয়েছি। সবসময় চেষ্টা করছিলাম যে, আমি চার মারব। ছক্কা মারার কোনো চিন্তা ছিল না।’

তবে কি এত বড় অর্জন আর প্রাপ্তির পরও ভেতরে পুলক জাগেনি। মনে আনন্দের ফলগুধারা বয়ে যায়নি? তা বয়েছে অবশ্যই। মনে সৃষ্টি সুখের উল্লাসও আছে। তাই তো মুখে এমন কথা, ‘এটা স্পেশাল ইনিংস। তিনশ করা যে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন। আবার যে কোনো লেভেলেই এটা করা কঠিন। এটা যদি সহজ হতো, তাহলে প্রত্যেক মাসে একজন করে দেখতেন যে তিনশ করছে। এটা খুব স্পেশাল। আমার হৃদয়ে খুব বড় জায়গায় এটা থাকবে।’